মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর দীর্ঘ দুই মাস পর বিকল্প পথে এক লাখ টন অপরিশোধিত (ক্রুড অয়েল) তেল নিয়ে বাংলাদেশে আসছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী মঙ্গলবার (৫ মে) জাহাজটি তেল নিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পৌঁছার কথা রয়েছে। ওইদিন থেকেই ছোট জাহাজে করে তেল খালাস শুরু হবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে গত ২১ এপ্রিল সকালে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।
তেলের এ চালান এলেই কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি আবার উৎপাদনে ফিরবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস পর হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথে লোহিত সাগর দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে এ ক্রুড অয়েল।
এ প্রসঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং এন্ড শিপিং) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেওয়া জাহাজটি আগামী ৫ মে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পৌঁছার কথা রয়েছে। এ জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নয়; এ জাহাজ লোহিত সাগর উপকূল হয়ে বাংলাদেশে আসছে।’
তিনি জানান, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল লোড করার শিডিউল আছে।
ইস্টার্ণ রিফাইনারী পিএলসি’র উপ মহাব্যবস্থাপক (অপারেশান্স) মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান বলেন, আগামী ৫ মে ক্রুড অয়েল নিয়ে ট্যাংকার জাহাজটি কুতুবদিয়ায় ভেড়ার কথা রয়েছে। ওইদিনই ছোট জাহাজে করে তেল খালাস করা হবে।’
তিনি বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে ৭ মে থেকে ইস্টার্ণ রিফাইনারী পুরোদমে উৎপাদনে ফিরবে। ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশে বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ পরিশোধন হয় চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়েছিল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এরপর অপরিশোধিত তেলের কোনও জাহাজ দেশে আসেনি। এরই মধ্যে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত একটি মাদার ভেসেল সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দরে আটকা পড়েছে। এমটি নর্ডিক পলাঙ নামের জাহাজটি গত ২ মার্চ সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই জাহাজটিতে ক্রুড অয়েল লোড করা হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটি এখনও বন্দরে নোঙর করে আছে। আগামী ২১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাত জেবেল আলী ধান্না বন্দর থেকে আরেকটি জাহাজে ক্রুড অয়েল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার শিডিউল ছিল। ওই জাহাজটিতেও এক লাখ মেট্রিক টন তেল আনার কথা ছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটিরও শিডিউল বাতিল করা হয়।


