বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
Single Top Banner

যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা

দুই দিনেও মামলা হয়নি, শনাক্ত পাঁচ হামলাকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে হত্যার দুই দিন পার হলেও এখনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে মুহাম্মদ জাকির (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যা মামলা না থাকায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজানের ব্যস্ততম চৌমুহনী বাজার এলাকায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচজনই আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তাদের মধ্যে দুজনের হাতে শর্টগান এবং তিনজনের হাতে পিস্তল ছিল।

হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে একটি দোকানের সামনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন মাসুদ। কিন্তু সেখানেও তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে হামলাকারীরা। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীদের দুজন পুনরায় ফিরে এসে তার মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন ধামা ইলিয়াছ, দিদার, আফসার, ইউসুফ ও জাভেদ। তারা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাস, অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে পুলিশের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত মামলা হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা সন্ধ্যার দিকে মামলা করতে থানায় আসবেন।

তিনি বলেন, “ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাকির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরীর ছোট ভাই। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হত্যার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আধিপত্য বিস্তার নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা না হওয়ায় তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত