মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
Single Top Banner

ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষে অ্যান্ডি বার্নহাম

ডেস্ক রিপোর্ট :

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা, দলীয় চাপ এবং ক্রমহ্রাসমান জনপ্রিয়তার মুখে অবশেষে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন কিয়ার স্টারমার। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হলো। একই সঙ্গে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের পদত্যাগ ছিল অনেকটাই প্রত্যাশিত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার সরকারের প্রতি জনসমর্থন কমতে শুরু করে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় আলোচনার বাইরে থাকা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার কর বৃদ্ধি এবং ব্যয় সংকোচনের মতো অজনপ্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

তবে স্টারমার সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কিত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। এর প্রভাব পড়ে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে, যেখানে লেবার পার্টি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
এরপর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংসহ প্রায় একশ’ লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত দলের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

বার্নহামই সবচেয়ে এগিয়ে : 

স্টারমারের বিদায়ের পর লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রেডিকশন মার্কেট ও বেটিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯৫ শতাংশ।

‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত বার্নহাম সম্প্রতি তার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার বড় প্রমাণ দিয়েছেন। গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে তিনি ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ডানপন্থী পপুলিস্ট দল ‘রিফর্ম ইউকে’-কে পরাজিত করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক যোগ্যতা অর্জন করেন।

নেতৃত্বের দৌড়ে আরও কয়েকজন : 

বার্নহামের পাশাপাশি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিটিংয়ের জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম।

দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নেতা হওয়ার জন্য ৪০৩ জন লেবার এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন নিশ্চিত করে মনোনয়ন পেতে হবে। এরপর দলীয় সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত নেতা নির্বাচন করা হবে।

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ সদস্যদের মধ্যে বার্নহাম ব্যাপক জনপ্রিয়তা উপভোগ করছেন এবং সহজেই নেতৃত্বের লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার অবস্থানে রয়েছেন।

সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ : 

তবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করলেও অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য পথ মোটেও সহজ হবে না। ইউগভের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মে থেকে জুনের মধ্যে সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা তার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে দেশের স্থবির অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে ব্রিটেনের অবস্থান সুদৃঢ় করা তার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

নতুন নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে শুরু হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। অ্যান্ডি বার্নহাম সেই অধ্যায়ে কতটা সফল হবেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা ব্রিটেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত