বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মান নিয়ন্ত্রণের জন্য সেল থাকতে হবে : নওফেল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি বলেন, ‘শিক্ষা শুধুমাত্র কোনো সনদ নেওয়ার প্রতিযোগিতা নয়, কর্মজীবনের জন্য একমাত্র উদ্দেশ্যও নয়। প্রাথমিকভাবে যে-বিষয়টি শিক্ষার মাধ্যমে, বিশেষত, উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে লাভ করি, সেটা হচ্ছে আমাদের মনোজাগতিক উন্নয়ন। এর জন্য দরকার, মনোজাগতিক পরিবর্তন, নৈতিকতার পরিবর্তন ও দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়ন। এই তিনটি বৈশিষ্ট্য আমাদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবন শেষে যদি না আসে, তাহলে ধরে নিতে হবে শিক্ষাটা সত্যিকার অর্থে বৃথা ছিল। গ্র্যাজুয়েট যারা আজকের সমাবর্তনে উপস্থিত আছেন, সকলের উদ্দেশ্যে আমাদের নিবেদন হচ্ছে, আমরা দীর্ঘ শিক্ষাজীবন শেষেও সুনির্দিষ্ট পরিবর্তনগুলোকে গ্রহণ করে পুরো জীবনব্যাপী শিখে যাবো।

৩০ অক্টোবর ২০২২, রবিবার (৩০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন সেন্টারে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আমাদের বর্তমান শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দর্শন হচ্ছে, লাইফ লং লার্নিং এবং লার্নিং হাউ টু লার্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ পেয়েছি বলেই অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। কর্মরত অবস্থায় যাঁরা আছেন, তাঁদের কাজের উন্নয়নে, পেশার উন্নয়নে, বৃত্তির উন্নয়নে সার্বিকভাবে অনেককিছু শিখতে হচ্ছে। গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ থাকবে যে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করার দক্ষতা ও বৃত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা ধরনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার মানসিকতা অর্জন করতে হবে। তা না হলে, যে কোনো পেশায় আমরা যাই না কেন, যে কোন বৃত্তিতেই যাই না কেন, জীবন ধারণ করা ও কর্ম সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। উচ্চশিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য বঙ্গবন্ধু-কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে-ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা ইতোমধ্যেই তার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োগ করতে যাচ্ছি। অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে আমরা এই পলিসি বাস্তবায়ন করছি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষার জন্য শুধু আউটকাম বেইসড কারিকুলাম নয়, এডুকেশনের ইউনিফর্মেটিও প্রয়োজন। তিনি ভাষাদক্ষতা ও বিভিন্ন ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মান নিয়ন্ত্রণের জন্য সেল থাকতে হবে। এটা আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা। জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে মৌলিক বিয়ষগুলোর মান উন্নয়নে যে-রূপরেখা (ডেল্টা রূপরেখা) দিয়েছেন, তা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। গ্র্যাজুয়েটদের এই রূপরেখা বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ করতে হবে।

এই অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন, ভারতের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর ড. পবিত্র সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সম্মানিত চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, ইউজিসির সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ ও প্রফেসর ড. মোঃ আবু তাহের।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী শামীম সুলতানা ও  ট্রেজারার প্রফেসর একেএম তফজল হক।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত