শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
Single Top Banner

মা আমাদের প্রথম শিক্ষক : পবিত্র সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভারতের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর ড. পবিত্র সরকার বলেছেন, আমরা কি কেবল স্কুল-কলেজেই শিখি? আমাদের শিক্ষা শুরু হয় কি একটা নির্দিষ্ট বয়সে, রাষ্ট্র বা সমাজের নির্দিষ্ট করে দেওয়া ঘরে, নির্দিষ্ট জীবিকার মানুষদের কাছে? সবাই জানি, তা হয় না। আমি ভাষাবিজ্ঞানে সামান্য পড়াশোনা করেছি, আমি জানি যে শিশু যখন তার সাত মাসের শরীরে মায়ের পেটে অবস্থান করছে, সে তখনই মায়ের গলার স্বর অন্যদের গলার স্বর থেকে আলাদা করতে পারছে। সেটা হয়তো তার প্রথম শিক্ষা। জন্মের পর থেকে তার তুমুল শিক্ষা শুরু হয়ে যায়। এক হল সামাজিক শারীরিক শিক্ষা, মাকে সে সকলের থেকে আলাদা করে চেনে, সেই সঙ্গে অন্যেদেরও আলাদা করে।  তার পর আঠারো সপ্তাহ থেকে শুরু হয় তার ভাষা শিক্ষা, সে আর এক কঠিন সাধনা।  কিন্তু কী আশ্চর্য ঘটনা, তিন সাড়ে-তিন বছরের মধ্যে সে অনর্গল বলতে শুরু করে সেই ভাষা, দশ বছরে তার ব্যাকরণ পুরো আয়ত্ত করে ফেলে। চম্স্কি এটাকে মানুষের একটা কঠিনতম বৌদ্ধিক অর্জন অর্থাৎ শিক্ষা বলেছেন, তা শিশু করে ফেলে নিজের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতসারে। অর্থাৎ সে যে একটা কিছু শিখছে তা সে বুঝতেই পারে না। অথচ পরে আমরা তো দেখি, একটা নতুন ভাষা শিখতে আমাদের কী গলদ্ঘর্ম হতে হয়।

রবিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন সেন্টারে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. পবিত্র সরকার বলেন, তার পর বাড়িতে শিখি, মা আমাদের প্রথম শিক্ষক। তখন চারপাশে প্রচুর শিক্ষক জুটে যায়, তাঁরা আমাদের স্কুলে-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ-নির্দিষ্ট শিক্ষকদের কাছে পৌঁছে দেন, সেই শিক্ষকেরা আমাদের পরীক্ষার সমুদ্র পার করে দেন। তার পর এই সমাবর্তন আসে। সমাবর্তনের পর আবার আমরা পৃথিবীর খোলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে যাই। এখানে পাঠ্যবই নেই, রেফারেন্স বই নেই, আছে এক বিশাল ক্লাসঘর, আর অজস্র পরীক্ষা। আমি আশা করব, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার মতো জীবনের সব পরীক্ষায় তোমরা সহজে পাশ করে যাও, তোমাদের অভিভাবক আর শিক্ষকদের মুখ উজ্জ্বল করো। নিজের কাজে সাফল্য অর্জন করে সমাজকে সমৃদ্ধ করো।

এতে সভাপতির বক্তব্য রাখেন,  শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, স্বাগত বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সম্মানিত চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, ইউজিসির সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ ও প্রফেসর ড. মোঃ আবু তাহের। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী শামীম সুলতানা ও  মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর একেএম তফজল হক।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত