বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

যাত্রী হয়রানি না করার মুচলেকা দিয়েছে কর্ণফুলী জাহাজ কর্তৃপক্ষ

কক্সবাজার প্রতিনিধি :

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকরা আর কখনো হয়রানি কিংবা ভোগান্তির শিকার হবেন না মর্মে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর মুচলেকা দিয়েছেন কর্ণফুলী জাহাজ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার রাতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরানকে এই মুচলেকা দেন কর্ণফুলী জাহাজের পরিচালক বাহাদুর হোসাইন।

বাহাদুর হোসাইন মুচলেকা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমিসহ কয়েকজন জেলা প্রশাসকের ডাকে বুধবার রাতে তার অফিসে গিয়েছিলাম। সম্প্রতি সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকের চরম ভোগান্তি ও হয়রানির কথা স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছি। পাশাপাশি আর কখনো সাগরের মাঝপথে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে যাত্রী পারাপার ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনসহ নানা অনিয়ম ভবিষ্যতে আর হবে না মর্মে মুচলেকা দিয়েছি।

সুতরাং ভবিষ্যতে যেসব পর্যটক সেন্টমার্টিন যাবেন তারা সরাসরি যে জাহাজে যাবেন ঠিক সেই জাহাজে করেই পুনরায় কক্সবাজার শহরে ফিরে আসবেন। সাগরের মাঝখানে ট্রানজিট কিংবা আর কোনো প্রকার হয়রানি বা ভোগান্তিতে পড়বেন না।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটক হয়রানি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানাভাবে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমনকি ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারে ফিরেছেন পর্যটকবাহী জাহাজ। একইভাবে ওই জাহাজে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে হাজারখানেক পর্যটক নিয়ে আগুনের ঘটনাও ঘটেছিল। সব মিলিয়ে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ নিয়ে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সূত্রমতে, সেন্টমার্টিন থেকে মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বে ওয়ান জাহাজটি রাত ৯টার দিকে গভীর সমুদ্রে এসে আটকে যায়। জাহাজটিতে ১ হাজার ৩০০ জন পর্যটক ছিলেন। পরে অন্য জাহাজে করে বুধবার (২১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার কিছু পর কক্সবাজার পৌঁছায়। সারারাত শিশু, কিশোর ও বয়স্ক লোকজন অনাহারে-অর্ধাহারে রাত্রিযাপন করে। পাশাপাশি গভীর সাগরে চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ ওঠে পর্যটকদের। পরে এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বুধবার রাতে জাহাজ কর্তৃপক্ষকে ডাকেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান।

জেলা প্রশাসক বলেন, কর্ণফুলী জাহাজের পরিচালক বাহাদুরসহ জাহাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেককেই ডাকা হয়েছিল। যারা উপস্থিত হয়েছিল সবাই পর্যটক হয়রানি ও ভোগান্তির কথা স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি আর কখনো পর্যটক হয়রানি হবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ক্ষেত্রেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। যদি আবারো পর্যটক হয়রানি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, প্রতিদিন জাহাজ তদারকিতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। সুতরাং অনিয়ম করার তেমন সুযোগ থাকবে না। তারপরও যদি করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত