শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

বহিরাগতরা যাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে : আমীর খসরু 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন কোনো বাইরের লোক প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দল, মত ও ধর্ম নির্বিশেষে বাইরের কাউকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমরা কোনো বাইরের লোককে এখানে আসতে দিতে চাই না। ইউনিভার্সিটিকে আরেকটা কথা বলছি আমি- দয়া করে কোনো বহিরাগত যেন ইউনিভার্সিটিতে ঢুকতে না পারে, এটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। সেটা যে দলই হোক, যে ধর্মেরই হোক। বাইরের কোনো লোককে এক্সেস দেওয়া উচিত না। এই কালচারটা ডেভেলপ করতে হবে, এটা আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে করতে হবে।”

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন।

দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পাহাড় ও সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধতার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী।

দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পাহাড় ও সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধতার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “চিটাগং ইউনিভার্সিটিতে আমি অনেকদিন পরে এসেছি। ঢুকতে ঢুকতে আমার তো মনে হচ্ছে আই অ্যাম ইন নেচার। আমি প্রকৃতির ভেতরে ঢুকছি, মনে হচ্ছে আমি এখানে একটা হলিডে রিসোর্টে ঢুকে গেছি, কোনো একটা উডের মধ্যে, বনের মধ্যে। অপূর্ব!”

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এত বড় এলাকা, এরকম একটা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মতো একটা ছোট দেশে, এত বিশাল এলাকা- তার মধ্যে কত বড় একটা ফরেস্ট! আমি ভিসিকে জিজ্ঞেস করেছি, আপনাদের এখানে ওয়াইল্ডলাইফ কী কী আছে? বন্যপ্রাণী কি আছে এখানে? পাখি কতগুলো আছে? আপনারা কি এগুলো ক্যাটালগ করেছেন? ক্যাটালগ করেন আপনারা। ইট ইজ সামথিং আনইউজুয়াল ইন বাংলাদেশ সারাউন্ডিং।”

প্রাকৃতিক এই পরিবেশের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারাকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে অভিহিত করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উন্নত ও আধুনিক পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিতে উপাচার্যের প্রতি আহবান জানান তিনি।

দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, “বাংলাদেশের ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। তাও কীভাবে উচ্চ মূল্য দিয়ে যেভাবে আনতে হচ্ছে; সরকারের তো সামর্থ্যের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এবং সরকার চলে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। সুতরাং আমাদের খুব সাবধান হতে হবে।

“এজন্য আমাদের সকলের মিলে কৃচ্ছতাও সাধন করতে হবে। আবার সাথে সাথে যাতে লাইট অফ না হয়, যাতে ফ্যাক্টরি বন্ধ না হয়; আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ম্যানেজমেন্ট খুবই ভালো। তবে সমস্যা নাই—এই কথা বলার তো সুযোগ নেই।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখবেন আমরা সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। বিরোধী দলসহ একটা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এখানে ট্রান্সপারেন্সি। আমরা পুরো বিষয়টা স্বচ্ছতার সাথে হ্যান্ডল করছি।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন—ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন, অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল্-ফোরকান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত