রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
Single Top Banner

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সরব চট্টগ্রাম, মাঠে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

নাছির চৌধুরী :

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের উপজেলা সদর থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা, ১৫ পৌরসভা ও ১৯৪টি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীরা প্রায় প্রতিদিনই এলাকায় অবস্থান করছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছেন। অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর নগরীর অভিজাত হোটেলগুলোতেও নিয়মিত বৈঠক করার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে শুরু হতে পারে নির্বাচন
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুম শেষে আগামী সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের চিন্তা করছে সরকার। নির্বাচন কমিশনও ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগেভাগেই ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের জন্য ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও প্রস্তুতের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখছি। ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কাজও চলছে।”

চট্টগ্রামে ১৫ উপজেলা, ১৫ পৌরসভা ও ১৯৪ ইউনিয়ন
চট্টগ্রাম জেলায় মোট ১৫টি উপজেলা, ১৫টি পৌরসভা এবং ১৯৪টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।

জেলার উপজেলাগুলো হলো— মীরসরাই, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী।

এছাড়া জেলার পৌরসভাগুলো হলো— মীরসরাই, বারইয়ারহাট, সন্দ্বীপ, পটিয়া, রাউজান, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, দোহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভা।

জনসম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা
সরকার পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে। তবে প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। ফলে উপজেলা সদর থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদেও এখন নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে।

ইসির পরিকল্পনায় আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসছে বড় পরিবর্তন
জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে- পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, ইভিএম ব্যবহার না করা, পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল, প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজন;
অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল;
পলাতক বা ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার ও
নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত