নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রাম। কিন্তু এই চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অপশক্তির নজর চট্টগ্রামের দিকে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—চট্টগ্রামের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। এই চট্টগ্রামকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার (২০ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট বিপ্লব উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপি নেতারা সত্য উন্মোচন করেছেন বলেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। বাঁশখালীতে আমাদের সংগঠকের ওপর হামলা হয়েছে, ব্যানারে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমাদের বলতে বাধা দিলে, বাঁধবে লড়াই। আর এই লড়াইয়ে জিততেই হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছি। এরপর তিনি চট্টগ্রামের ভাষায় বউত দিন হাইয়ো আর না হাইয়ো স্লোগানে নেতাকর্মীদের মাতিয়ে তুলেন।
সভায় চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, অতীতে বাংলাদেশে যারা শাসন করেছে তারা কেউ দিল্লিকে, কেউ লন্ডনকে সেকেন্ড হোম বানিয়েছে। তারা লুটপাট করে সেখানে পালিয়েছে। এখন তরুণ প্রজন্ম জেগেছে। এই প্রজন্মকে টাকা দিয়ে কেনা যায়নি। হাসিনা কিনতে পারেনি। আমরা এই প্রজন্ম বাংলাদেশকে গড়ব।

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় ১৬ জুলাই প্রতিরোধ করা হয়েছিল। এর একদিন আগে চট্টগ্রামে ছাত্র লীগকে প্রতিরোধ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম লড়াইয়ের শহর, প্রতিরোধের শহর। আমরা স্বৈরাচার হটিয়েছি, কিন্তু সফল রাষ্ট্র গঠন করতে পারিনি। আমাদের এখন রাষ্ট্র গঠনে মনোযোগ দিতে হবে।
সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এদেশের মানুষকে পাসপোর্ট অফিসে হয়রানির শিকার হতে হয়। শিক্ষাবোর্ডে গেলে, থানায় গেলে, সচিবালয়ে গেলে হয়রানির শিকার হতে হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে অতীতে বিভাজন করা হয়েছে। আমাদের বাঙালি, অবাঙালি, সুন্নি আর অসুন্নির মধ্যে আর বিভাজন করা যাবে না। চট্টগ্রামের মানুষ ধর্মপ্রাণ। অতীতে ধর্ম পালনের কারণে নিপীড়ন করা হয়েছে। এখন এসব চলবে না।
সভায় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সামান্তা শারমিনসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
এর আগে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট থেকে পদযাত্রা করে বিপ্লব উদ্যানের সমাবেশে যোগ দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশ শেষ করে আরেক দফা পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হয়।
পদযাত্রার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনীম জারা ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সামান্তা শারমিনসহ অন্যরা।
এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে নগর পুলিশ। পুলিশের নিয়মিত সদস্য, গোয়েন্দা টিমসহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে ডগ স্কোয়াডও মাঠে সরব ছিল।


