বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানেল স্পিকার ও হুইপ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, সমৃদ্ধশালী সাতকানিয়া ও লোহাগড়া গড়ে তুলতে তিনি জনগণের দোয়া, সহযোগিতা ও মূল্যবান ভোট কামনা করছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “আমি এই এলাকা থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। জনগণের কাছে দেওয়া কোনো ওয়াদা আমি ভঙ্গ করিনি। প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার থেকে এলাকার উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ পেয়েছিলাম, তার প্রতিটি টাকার হিসাব একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সংসদ সদস্য এমন স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেননি।”
দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর আমরা চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। একের পর এক মিথ্যা মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক ভাই শহীদ হয়েছেন, অনেককে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। তবুও আমরা কখনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে যাইনি। কারণ জামায়াতে ইসলামী প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার ও ইনসাফের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ—যেখানে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা থাকবে, তরুণদের কর্মসংস্থান হবে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে এবং নারীরা সম্মানের সঙ্গে চলতে পারবে।”
আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লা ন্যায়, সততা ও ইনসাফের প্রতীক। উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির পক্ষে থাকতে হলে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের পাশে থাকুন।”
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খাঁন, সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল করিম, সাতকানিয়া জামায়াতের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক আইয়ুব আলী, নলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সাবেক সভাপতি দিদারুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি আবুল বশর।
এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ আহমদ, আব্দুস সাত্তার, মাওলানা আবুল কাশেমসহ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


