বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি হলে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে আমরা সরাসরি মন্তব্য করতে চাই না। তবে নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।”
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের পরও পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “বাংলাদেশকে এখন আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। এদেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশবিরোধী ও স্বার্থবিরোধী গোষ্ঠী নানা ধরনের উসকানি ও সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করবে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র হবে বাংলাদেশ।”
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যারা নতুন করে এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন এবং যারা আগে থেকেই আছেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব রাখা যাবে না। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
তিনি বলেন, দেশে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচার ও সংস্কার বাস্তবায়নে এনসিপিকে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীদের অধিকার রক্ষায়ও কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হামের প্রকোপ বাড়ছে। আমরা চাই না আর একটি শিশুও হামের কারণে মারা যাক। সরকারকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।”


