চট্টগ্রাম নগরীকে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, খাল খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা হবে।
মেয়র মঙ্গলবার সকালে নগরীর রসুলবাগ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। বর্ষা মৌসুমের আগে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে চসিকের বিশেষ খাল খনন অভিযানের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। মেয়রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একই দিনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ খালের খনন ও ময়লা পরিষ্কার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
মেয়র জানান, সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি চসিক নিজ উদ্যোগে ৩৭ থেকে ৪০টি খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছে। প্রথম ধাপে গোলজার খালসহ চারটি খালের খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা, ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদের নাসির খাল এবং ৩৭ নম্বর হালিশহর বন্দর এলাকার বড় খাল পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি খাল সম্পূর্ণ পরিষ্কারে ১৫ দিন থেকে এক মাস কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি খালের খনন কার্যক্রম শুরুর আগে ও শেষ হওয়ার পর ছবি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মেয়র।
পরিদর্শনকালে মেয়র অভিযোগ করেন, একটি নির্মাণাধীন সুইস গেটের কারণে খালের মুখ সংকুচিত হয়ে পানি প্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও চসিক বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বর্জ্য রাস্তাঘাট ও নালায় থেকে যাচ্ছে, যা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, “শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে নগরী পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নালা-নর্দমায় ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন নগরী গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, অনেক নাগরিক সামান্য ফি প্রদানে অনাগ্রহী হওয়ায় চসিক বিনামূল্যে এ সেবা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে যত্রতত্র ময়লা ফেলা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার এবং ম্যাজিস্ট্রেট সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নগর উন্নয়নের অর্থায়ন প্রসঙ্গে মেয়র জানান, বর্তমানে চসিকের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বকেয়া ২৬৪ কোটি টাকা, বাংলাদেশ রেলওয়ের আনুমানিক বকেয়া ১৬ থেকে ১৮ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কন্টেইনার ডিপোর বকেয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকা। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানান।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “বিগত কয়েক বছরের কাজের ফলে নগরীর প্রায় ৭০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমেছে। অবশিষ্ট সমস্যা সমাধানে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়া সম্ভব নয়।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদসহ চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


