শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
Single Top Banner

এনসিপির দুই নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রামের এক নারী নেত্রীর বিরুদ্ধে দলের এক নারী কর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন নিজেকে দলের পদপ্রত্যাশী নারী কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক তরুণী।

তবে অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে এনসিপি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী বলেন, সাংগঠনিক বৈঠকের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে তাকে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের বারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করা হয়েছে।

তার অভিযোগ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সাদিয়া আফরিন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। পদ-পদবি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাদিয়া আফরিন তাকে নগরীর পেনিনসুলা হোটেলের একটি বারে নিয়ে যান, যেখানে সুজা উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগকারী জানান, গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি হোটেলে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, এটি একটি বার এবং সুজা উদ্দিন আরও কয়েকজনের সঙ্গে সেখানে বসে আছেন। তার দাবি, সুজা উদ্দিন তাকে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করেন এবং বিভিন্ন ধরনের পানীয় গ্রহণের প্রস্তাব দেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিবেশে অস্বস্তিবোধ করলে সাদিয়া আফরিন তাকে “সুজা উদ্দিনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলার” জন্য চাপ দেন। পরে সাদিয়া চলে গেলে সুজা উদ্দিন কয়েকবার তাকে নিজের পাশে বসতে বলেন এবং তার আচরণ ও অঙ্গভঙ্গি ছিল “অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক”।

অভিযোগকারী বলেন, তিনি এসব প্রস্তাবে সাড়া না দিলে সুজা উদ্দিন তাকে “ডিল অর ডেথ” বলে হুমকি দেন এবং রাজনৈতিক সুবিধা, পদ-পদবি ও আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখান।

তিনি আরও দাবি করেন, হোটেল থেকে বের হওয়ার পর সাদিয়া আফরিনকে ফোন করে ঘটনার প্রতিবাদ জানালে তিনি বলেন, “রাজনীতি করতে হলে বড় নেতাদের ব্যক্তিগত সময় দিতে হয়, এটাই রাজনৈতিক কালচার।”

অভিযোগকারী জানান, এ ঘটনায় সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে গত ১৭ জুন চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় বলেন, “সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অসত্য। সুজা উদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার করা হচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারী ওই নারী কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তিনি নিজের পরিচয় কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য প্রকাশ করেননি। তার ভাষ্য, “কেবল অভিযোগ করলেই হবে না, অভিযোগের পক্ষে প্রমাণও থাকতে হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের সরাসরি বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং তদন্তের আগে বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত