চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার, গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার এবং মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
গত ১৩ জুন রাতে পরৈকড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন অর্ক বড়ুয়া। ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মামলার একমাত্র আসামি রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে পটিয়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নিহতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি সম্বলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার তদন্তে ৪ জন পুলিশ সদস্যসহ মোট ২২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, মেডিকেল রিপোর্ট, আলামত, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের মাত্র ১০ দিনের মাথায় একমাত্র আসামি রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩২৩/৩০৭/৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র (নং-১৪৭, তারিখ: ২৪ জুন ২০২৬) আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তাদের পেশাদার ও নিরলস কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


