টানা ভারী বৃষ্টিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লাল্যাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে লক্ষী বিলাস চাকমা (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব-পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যু লক্ষী বিলাশ চাকমা নিহত দ্রোনোচার্জ্য চাকমার ছেলে। দুইদিনের টানা বৃষ্টি পাতের ফলে মঙ্গলবার সকাল ৮ ঘটিকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে বলে জানান নিহত লক্ষী বিলাশ চাকমার বড় ভাই বিমলেন্দু চাকমা। তিনি জানান রাতে বৃষ্টি পাতের ফলে বসত ঘরের পাশের অংশে মাটি ধসে পড়ে। লক্ষী বিলাশ চাকমা ধসে পাড়া মাটি সরাতে গেলে পুনরায় উপর থেকে গাছের গুঁড়ি সহ মাটি ধসে পড়ে চাপা পড়ায় ঘটনা স্থলেই মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে গাছ ও মাটি সরিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা ।
বাঘাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নিহত পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
লক্ষী বিলাস চাকমার আকস্মিক মৃত্যুতে পশ্চিম লাল্যাঘোনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার শিলছড়ি বালুচর এলাকায় পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধসে পড়া মাটি ও গাছপালা অপসারণের কাজ শুরু করেন।
এ ছাড়া কাপ্তাই উপজেলার ফকিরঘোনা, মিতিঙ্গাছড়িসহ কয়েকটি এলাকায় পাহাড় ধসে একাধিক বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্য কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
রাঙামাটি আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় জেলায় ৬৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পাহাড়ের পাদদেশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে পাহাড়ের ঢালে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


