দেশের অন্যতম পর্যটন শহর রাঙামাটিতে কিছু কিছু আবাসিক হোটেলে সম্প্রতি অসামাজিক কার্যকলাপের মহোৎসব চলছে; এমন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত পুলিশি অভিযানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একদল দালাল চক্র দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যৌনপেশায় নিয়োজিত নারীদের এনে শহরের বিভিন্ন হোটেলে অবৈধভাবে পতিতাবৃত্তি ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
সম্প্রতি টানা দুইদিনের অভিযানে রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার এলাকার তিনটি হোটেলে এসব অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে হোটেল আরজু বোর্ডিং থেকে ৬ জন এবং শুক্রবার রাতে হোটেল জেরিন ও হোটেল পাহাড়িকা থেকে ৫ নারী-পুরুষকে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলো; সামছুন নাহার (২৯), শাহনাজ বেগম (৩০), মোঃ আলমগীর (৪০), দীপক বড়ুয়া (৩৫), ও জেরিন হোটেলের ম্যানেজার মো. আলমগীর (৫২)।
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন জানান, “স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে হোটেল পাহাড়িকা ও জেরিন থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।”
রাঙামাটি একটি শান্ত, পাহাড়ঘেরা পর্যটন শহর হিসেবে দেশ-বিদেশের ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে সুপরিচিত। কিন্তু সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে জেলার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে।
সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধে শুধু পুলিশি অভিযানই নয়, বরং প্রশাসন, হোটেল মালিক সমিতি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পর্যটন শহরের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।


