শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

ইরান সংকটে সহায়তা না দেওয়ায় ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে শাস্তির চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে ন্যাটো জোটের ভেতরে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ পর্যাপ্ত সহায়তা দেয়নি। এ প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন শাস্তিমূলক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলের বরাত দিয়ে এক কর্মকর্তা জানান, ইরান সংকটে অনেক ন্যাটো সদস্য দেশ সরাসরি সহায়তা দেয়নি। কেউ কেউ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, আবার কেউ আকাশসীমাও বন্ধ রেখেছে। ফলে ‘অ্যাকসেস, বেসিং অ্যান্ড ওভারফ্লাইট’ (ABO) সুবিধা না পাওয়ায় ওয়াশিংটন তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব সুবিধা ন্যাটো জোটের মৌলিক প্রত্যাশার অংশ হওয়া উচিত। এমনকি কিছু ‘অসহযোগী’ দেশকে জোটের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরানোর বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। তবে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কারের কোনো বিধান নেই।

এতে স্পেন-কে ন্যাটো থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য-এর সঙ্গে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তার দেশ জোটের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো অভ্যন্তরীণ ই-মেইলকে নীতিনির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

অন্যদিকে, পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের অবস্থান অনুযায়ী ন্যাটোকে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল জোটে রূপান্তরের জন্য বাস্তবসম্মত বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক ন্যাটোর ভেতরে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সামরিক সহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

৭৬ বছরের ইতিহাসে এই ধরনের চাপ ও অনিশ্চয়তা ন্যাটোর ভবিষ্যৎ সহযোগিতা কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত