বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ সফল করার মাধ্যমে নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েমের যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।
তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মানুষের পাশে থেকে ন্যায়, ইনসাফ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি, বিশৃঙ্খলা কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা ও আইনজীবী থানা জামায়াতের উদ্যোগে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে আয়োজিত দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাকলিয়া থানা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ সুলতান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, নগর কর্মপরিষদ সদস্য ড. আ ম ম মসরুর হোসাইন।
মুহাম্মদ শাহজাহান রুকনদের উদ্দেশে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য আত্মশুদ্ধি, আমল, নৈতিক চরিত্র ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নিজেদের জীবন গঠন করার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের নীতি ও শৃঙ্খলা মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে যে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে, তা সফল করতে নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে সাংগঠনিকভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের যেকোনো সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ফরজ ও ওয়াজিব আদায়, কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা, শতভাগ হালাল উপার্জন এবং উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হওয়ার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য বা রুকন হতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, রুকন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর নিয়মিত দ্বীনি জ্ঞান অর্জন, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নয়ন সাধন, অহংকার, হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার, আর্থিক ও সামাজিক লেনদেনে সর্বোচ্চ সততা ও আমানতদারিতা বজায় রাখা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রত্যেক রুকনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একইসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে থানা সেক্রেটারি নুর আহমদের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাকলিয়া থানা জামায়াতের নায়েবে আমীর মুহাম্মদ আবুল মনছুর, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ নাছির, পেশাজীবী সম্পাদক মুহাম্মদ মফিজুর রহমান, অফিস সম্পাদক প্রকৌশলী জমির আলম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, ১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের আমীর কামাল হোসাইন, নায়েবে আমীর আলহাজ্ব আহমাদুল হক, সেক্রেটারি ওহিদুল কাদের চৌধুরী, ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের আমীর ওয়াহিদ মোর্শেদ, ১৯ নং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের আমীর শেখ আহমদ এবং সেক্রেটারি সুলতান ইয়াছিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


