মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে নৌকা প্রতীক সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক বরাদ্দের আগেই পুরো নগরীতে নৌকায় ভোট চেয়ে ব্যানার ফেস্টুন সাঁটছেন তারা। ভোটের ২৬ দিন আগেই আইভীপন্থী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে উল্লাস আর উৎসবের আমেজ।
শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে নির্বাচনে অন্য প্রার্থীরা এ ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অভিযোগ করে বলছেন, সরকারদলীয় প্রার্থীর এমন আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে বারবার বলেও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।
জানা গেছে, নাসিক নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আচরণবিধির ৫নং ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না।
এর আগে তফসিল ঘোষণার পর ৬ ডিসেম্বর সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাগানো সব পোস্টার ব্যানার ফেস্টুন অপসারণের জন্য ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা মতিউর রহমান।
পরে এ সময়ের মধ্যেও ব্যানার ফেস্টুন অপসারণ করা না হলে তিনি নিজেই অভিযান পরিচালনা করে এসব অপসারণ করেন। ৮ ডিসেম্বর বিকালের পর থেকে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
৯ ডিসেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ ও ১০ ডিসেম্বর বন্দরের তিনটি ওয়ার্ডে ব্যানার ফেস্টুন অপসারণে অভিযান পরিচালিত হয়। এরপরও নগরীতে কিভাবে আইভীর ব্যানার ফেস্টুন রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্য প্রার্থীরা।
নির্বাচনের অন্যতম স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ইতিমধ্যেই সরকারদলীয় প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভীর আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি বলেছেন, এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না। কেন ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে মিছিল করে ভোট চাইছেন তারা। এসব কেন ইসির নজরে পড়েনা। আমি কিন্তু জনগণের মেয়র প্রার্থী। জনগণের বিপক্ষে গিয়ে কাউকে যদি ইসি ওয়াকওভার দেয় তাহলে পরিণতি ভালো হবেনা।
যদিও এ ব্যাপারে মেয়র আইভীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আমরা ব্যানার ফেস্টুন অপসারণে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি বিভিন্ন ওয়ার্ডে। আবারো অভিযান চালাবো। যারা আচরণবিধি মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


