সিপি ডেস্ক :
অবশেষে ধ্বংস করা হচ্ছে ৪০ বছর আগে আমদানি করা সেই ডাইক্লোরো ডাইফিনাইল ট্রাইক্লোরো ইথেন (ডিডিটি)। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেসের (ডিজিএইচএস) মেডিকেল সাবডিপোতে ফেলে রাখা হয়েছিল ডাইক্লোরো ডাইফিনাইল ট্রাইক্লোরো ইথেন (ডিডিটি)। অবশেষে নিষিদ্ধ এ কীটনাশক বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নষ্ট করতে ফ্রান্সে পাঠানো হচ্ছে। এরই মধ্যে দুটি চালান ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ চালান নিয়ে আরেকটি জাহাজ যাবে ২ ডিসেম্বর।
বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম পরিচ্ছন্নতাকরণের অত্যন্ত জটিল আন্তর্জাতিক এ ব্যবস্থাপনার নেতৃত্ব দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। ১৯৮৫ সালে ৫০০ টন ডিডিটি কীটনাশক আমদানি করা হয় ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহনকারী মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য। পরে প্রযুক্তিগতভাবে অকার্যকর গণ্য করা হয় এ কীটনাশককে। এ চালানটি পৌঁছানোর পর এটিকে ডিজিএইচএসের মেডিকেল সাব-ডিপোতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল।
এফএওর কীটনাশক বিশেষজ্ঞ মার্ক ডেভিস বলেন, ‘আমার জানামতে আর কোথাও একটি সুনির্দিষ্ট এলাকা থেকে এত পরিমাণ কীটনাশক অপসারণের ঘটনা আর নেই। ডিডিটি অপসারণের প্রক্রিয়াতে বিষাক্ত ধুলা যাতে সৃষ্ট না হয় তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছিল। এ বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ এড়াতে এবং পরিবেশে রাসায়নিক যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে আমাদের দিক থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়েছিল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মী এবং বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে গ্রিসভিত্তিক একটি বিশেষজ্ঞ কোম্পানি সাইটটিতে ডিডিটি পুনরায় প্যাকিং সম্পন্ন করতে চার মাস সময় নেয়। এসব কীটনাশক জাতিসংঘ-অনুমোদিত রাসায়নিক পাত্রে রাখা হয়েছিল, যেগুলো ২৪টি শিপিং কনটেইনারে তোলা হয়।
ডিডিটি অপসারণ সম্পূর্ণভাবে একটি প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন, নিয়ম ও প্রবিধানের আওতায় পড়ে। গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটির (জিইএফ) অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সরকার ও এফএও বাংলাদেশের সহ-অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানটির পেস্টিসাইড রিস্ক রিডাকশন ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় কাজটি করা হয়।
এফএওর ট্যাকনিক্যাল অ্যাডভাইজর সাসো মার্টিনভ বলেন, এটি ছিল একটি জটিল এবং প্রযুক্তনির্ভর প্রক্রিয়া। তা দক্ষতা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি একটি বড় অর্জন। কিন্তু বাংলাদেশে অন্যান্য কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে এখনো অনেকদূর যেতে হবে। ডিডিটি অপসারণ উপলক্ষে চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু হোটেলে গতকাল একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমি পরিবেশ সচিব থাকাকালীন যখন শুনেছি, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ডিডিটি পড়ে আছে, তখন মনে হয়েছে এটি এক মুহূর্তও এখানে রাখা যাবে না। আমরা সবাই একটা কাজে সফল হয়েছি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। এ ছাড়া ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন।


