পটিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রথম বারের মতো ‘রাইস ট্রান্সপ্লান্টার’ যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। এ নিয়ে স্হানীয় কৃষকদের মাঝে নানা উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এই পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ করে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা। ‘রাইস ট্রান্সপ্লান্টার’ মেশিন ব্যবহারের ফলে বীজ, শ্রম ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ও কমবে পাশাপাশি বাড়বে ধানের ফলন।
বরিবার. (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কোলাগাঁও ইউনিয়নের বাণীগ্রাম এলাকায় রাইস ট্রান্সপ্লান্ট মেশিনের মাধ্যমে ধানের চারা রোপনের কার্যক্রমের উদ্ধোধন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু রিয়াদ, রমা দত্ত, সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বুলবুল, স্হানীয় কৃষক ফোরকান, নুরুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, আবদুল জব্বার।
জানা যায়, পটিয়া উপজেলার ৬০ ভাগ কৃষক কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এই মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন জমিতে ইরি-বোরো ধান আবাদে ব্যস্ত কৃষকরা। আর এ সময় বোরো আবাদে কৃষি খাতে ব্যাপক শ্রমিক সঙ্কট দেখা দেয়। বিশেষ করে ধান রোপণ ও কাটার মৌসুমে শ্রমিক সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করে। এ সঙ্কট মোকাবিলায় কৃষিযন্ত্রের ব্যবহারে শ্রমিক সংকট থেকে উত্তরন পাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এরই মধ্যে নতুন হিসেবে ধান রোপণে পরিচিতি পেয়েছে ‘রাইস ট্রান্সপ্লান্টার’। অল্প সময়ে অধিক জমিতে স্বল্প ব্যয়ে ধানের চারা লাগাতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের কোনো জুড়ি নেই।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি বছর বোরো মৌসুমে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার কৃষকদের স্বল্পমূল্যে দেওয়া হয়েছে। এতে করে কৃষকরা দ্রুত জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে পারবেন। ফলে উপকৃত হবে স্হানীয় কৃষকেরা।
উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের বাণীগ্রাম এলাকার কৃষক জসিম উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, প্রতিবছর ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণে শ্রমিক সঙ্কট দেখা দেয়। শ্রমিকের অভাবে অনেক জমি আবাদ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের। অনেক জমি পতিত থেকে যায়। এই যন্ত্র দিয়ে দ্রুত চারা রোপণ করা সম্ভব হয়। তাই এই যন্ত্রটি সহজলভ্য করে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি তাদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন, এই পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ করতে গেলে প্রথমে ট্রে পদ্ধতিতে চারা তৈরি করতে হবে। পরে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপণ করতে হয়। তবে এই পদ্ধতিতে জমি আবাদে কৃষকরা প্রথম দিকে তেমন আগ্রহী না হলেও ধীরে ধীরে তারা ব্যাপারটি বুঝতে পেরে এখন এগিয়ে আসছে। তাই কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে সরকার ৫০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিচ্ছে। এ ছাড়া এই পদ্ধতিতে চারা রোপণে কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে ১শ টাকার তেল খরচে ২ কানি (৭০ শতাংশ) জমিতে ধানের চারা রোপণ করা যায়। ১ কানি (৩৫ শতাংশ) জমিতে ২০ থেকে ২২ মণ ধান উৎপাদিত হয়। এই পদ্ধতিতে ধানের বীজতলা তৈরি করতেও কোন জমির প্রয়োজন হয় না। ছোট ছোট প্লাস্টিক বা ধাতব ট্রেতে খুব সহজেই বীজতলা তৈরি করা যায়। ১২ থেকে ১৫ দিন বয়সি ধানের চারা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে তুলে জমিতে রোপণ করা যায়।


