মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
Single Top Banner

লামায় খেলার মাঠে কাদা–আবর্জনার স্তূপ, হতাশ তরুণ সমাজ

মোহাম্মদ আবুল হাশেম, লামা (বান্দরবান)

বান্দরবানের লামা উপজেলায় খেলার মাঠের সংখ্যা অপ্রতুল। একদিকে প্রশস্ত খেলার মাঠের অভাব, অন্যদিকে বিদ্যমান মাঠগুলো রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় তরুণ সমাজ ক্রীড়াঙ্গন থেকে সরে যাচ্ছে। শিশুরাও বঞ্চিত হচ্ছে খেলাধুলা নামক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ থেকে। ফলে অনেকে ঝুঁকছে মোবাইল গেমিং, মাদক, জুয়া ও অনৈতিক কার্যকলাপে—যা তাদের সুস্থ জীবনযাপনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ এবড়োখেবড়ো ও কাদায় ভরা। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে গেলেই কাদার স্তর পার হতে হয়। মাঠের ভেতরে জমে আছে নোংরা পানি, চারপাশে ছড়ানো আবর্জনা। এতে খেলতে গিয়ে প্রায়ই আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, মাঠ সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। ফলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

একই অবস্থা টিটিএনডিসি মাঠের। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন প্রায় খেলার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অসমতল মাঠজুড়ে গর্ত আর খুঁটির জায়গা, যা শিশুদের জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। এই অব্যবস্থাপনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, মাঠের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।

স্থানীয়রা জানান, একসময় লামা থেকে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে এলেও বর্তমানে মাঠের অভাবে ক্রীড়াঙ্গনে পিছিয়ে পড়ছে এলাকা। ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব ও চট্টগ্রাম কিষোয়ান স্পোর্টিং ক্লাব থেকে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া লামার সন্তান মো. আরিফ মিয়া বলেন, “এখানে খেলার মত উপযোগী মাঠ নেই। অন্যত্র গিয়ে প্র্যাকটিস করতে হয়। অন্তত হাইস্কুল মাঠটি সংস্কার করলে লামা আবারও ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারবে।”

এ বিষয়ে লামা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, “মাঠের দুরবস্থার বিষয়টা লক্ষ্য করেছি। সমস্যার সমাধানে অতি দ্রুত মাঠের সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।”

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত