বিশেষ প্রতিনিধি: দেশে করোনাভাইরাসে গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৪৫৯ জন। এতে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ চার হাজার ৫২৫ জনে। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৭ জন মারা গেছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬১৮ জনে। এদিকে ২৪ ঘণ্টা আরও এক হাজার ৫৬৪ জন সুস্থ হয়েছেন। এনিয়ে মোট এক লাখ ১১ হাজার ৬৪২ জন সুস্থ হলেন।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ হাজার ৯৩৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ৬২৫টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১০ লাখ ২৮ হাজার ২৯৯টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। মোট রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
তিনি আরো জানান, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী। এখন পর্যন্ত মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৬৯ জন এবং নারী ৫৪৯ জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ৯০ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ২০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জন, রাজশাহী বিভাগে তিন জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে একজন, রংপুর বিভাগে একজন এবং খুলনা বিভাগে ৭ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ৩২ জন এবং বাসায় ৫ জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশের বিভিন্ন জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা হলো- ঢাকা ৪১,৯৫০, চট্টগ্রাম ১২,৬৬৯, নারায়ণগঞ্জ ৫,৬৯৮, কুমিল্লা ৪,১৬৭, গাজীপুর ৩,৯৬০, বগুড়া ৩,৯২৩, ফরিদপুর ৩,৫৯৩, সিলেট ৩,৩২৩, খুলনা ৩,৩০০, কক্সবাজার ৩,০৭৩, নোয়াখালী ২,৬৯৭, মুন্সীগঞ্জ ২,৫০৩, ময়মনসিংহ ২,০৫২, রাজশাহী ১,৯২১, কিশোরগঞ্জ ১,৭৬৭, বরিশাল ১,৬৮৬, নরসিংদী ১,৬৬৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১,৫০৯, চাঁদপুর ১,৪২২, লক্ষ্মীপুর ১,১৮৫, সুনামগঞ্জ ১,১৭০, গোপালগঞ্জ ১,১৫৮, যশোর ১,১৫৬, কুষ্টিয়া ১,০৫১, টাঙ্গাইল ১,০৪২, মাদারীপুর ১,০৩৯, ফেনী ১,০২৯, রংপুর ৯৮৩, সিরাজগঞ্জ ৯৫২, হবিগঞ্জ ৮৯৯, শরীয়তপুর ৮৪৩, রাজবাড়ী ৮১৪, পটুয়াখালী ৭৭৪, জামালপুর ৭৪০, নওগাঁ ৭৩৭, মানিকগঞ্জ ৭১৬, দিনাজপুর ৬৭৫, মৌলভীবাজার ৬৫৭, পাবনা ৬২৭, জয়পুরহাট ৫৯৮, নেত্রকোনা ৫৫১, ঝিনাইদহ ৫৩৫, বান্দরবান ৫০৯, রাঙ্গামাটি ৪৯৫, বরগুনা ৪৩৮, নড়াইল ৪৩৫, সাতক্ষীরা ৪৩২, ভোলা ৪২২, বাগেরহাট ৩৫৮, নীলফামারী ৩৫৩, চুয়াডাঙা ৩২৩, নাটোর ৩০৬, গাইবান্ধা ২৮৮, শেরপুর ২৬৭, ঝালকাঠী ২৪২, খাগড়াছড়ি ২৩৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২২৭, পিরোজপুর ২১৮, ঠাকুরগাঁও ২০৬, কুড়িগ্রাম ১৪৯, পঞ্চগড় ১৪৬, লালমনিরহাট ১২৬ ও মেহেরপুর ১১২ জন।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। ঠিক তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।


