বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

ডলুখালের ভাঙনে দিশেহারা চুনতির পানত্রিশা গ্রামের শতাধিক পরিবার

লোহাগাড়া প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নে ডলুখালের ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। ইউনিয়নের পানত্রিশা এলাকায় প্রবাহিত খালটি ইতোমধ্যে একস্থানে ২০টি বসতবাড়ি খালগর্ভে হারিয়ে গেছে। যেখানে দিনে দিনে বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতা। ভাঙন রোধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,চুনতি পানত্রিশা হাজি পাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত ডলুখালের উভয়পাশের বেশকিছু অংশ দীর্ঘ একদশক ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে খালের গর্ভে ২০টির মত বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার। এছাড়া পাশ্ববর্তী একটি চলাচলের রাস্তাও ভাঙনের কবলে পড়ে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরকে যাতায়াতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল বাহার রাজা বলেন, ভাঙনের কবলে পড়ে সড়কসহ বিশাল একটি অংশ নিচিহ্ন হয়ে গেছে। বিগতসময়ে ২০টি ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। পাশে আরও শতাধিক পরিবার খুবই আতঙ্কে দিনপার করছে।

সেগুলো যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যাবে। এছাড়া খালের ওপাড় থেকে কয়েকশো শিক্ষার্থী বীর বিক্রম জয়নুল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়ে আসাযাওয়া করে তাদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

নব্বই বছরের বৃদ্ধ নূর আহমেদ বলেন, দীর্ঘ একদশক ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের কারণে অনেকের খতিয়ানভুক্ত জায়গাও খালে মিশে গেছে। যেকোনো মুহুর্তে অবশিষ্ট শতাধিক বসতভিটাও বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, ডলুখালের ভাঙনে আমাদের ঘরবাড়িও ভেঙে যাচ্ছে। অনেকগুলো বাড়ি ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। আমাদের চলাচলের রাস্তাটিও ভাঙনেযুক্ত হয়ে এখন হাটার মতো পরিবেশও নেই।

বীর বিক্রম জয়নুল আবেদিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উর্মি আকতার বলেন, আমার বাড়ির পার্শ্বে খালের ভাঙনের কারণে স্কুলে যাতায়াতে ভয়ে থাকি। আমরা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

চুনতি বীর বিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত ইসলাম বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দিনে দিনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। খালের ওপারের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী পড়াশুনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। খাল ভেঙে যাওয়ার কারণে স্কুলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে শিকার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা জানে আলম প্রকাশ জানু মেম্বার বলেন, এলাকার ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।

মাস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, এলাকাটি অনেক গুরুত্বপুর্ণ। প্রতি বছরের বর্ষা মৌসমে ডলু খালের তীব্র স্রোতে খাল ভেঙে যাচ্ছে। ২০টির অধিক বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে,আরো শতাধিক বসতঘর হুমকির মুখে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙন সংস্কারে উদ্যোগ নিলে এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আনীস হায়দার বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের জন্য টিম পাঠানো হবে।পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ভাঙনকবলিত এলাকা সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে ভাঙন কবলিত এলাকা সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত