কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ১১টি গ্রামকে আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা জায়গায় মলত্যাগমুক্ত গ্রাম ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইউনিয়নের বাকখালী কনভেনশন হলে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সালেহ আহম্মদ। তিনি বলেন, “গ্রামীণ মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টা, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলেই আজ গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম খোলা জায়গায় মলত্যাগ মুক্ত হলো। এটি শুধু স্বাস্থ্য নয়, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রেও এক যুগান্তকারী সাফল্য।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী, প্রধান শিক্ষক ও ওয়ার্ড মেম্বাররা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, “খোলা জায়গায় মলত্যাগ স্বাস্থ্যঝুঁকি, পানিবাহিত রোগ এবং পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। এই সাফল্যের মাধ্যমে গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাত্রার নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক মাইনউদ্দীন খালেদ।
তিনি বলেন, “আজকের এই অর্জন শুধু একটি ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি হবে আমাদের গ্রামের প্রতিটি মানুষের জীবনের অংশ। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে। খোলা জায়গায় মলত্যাগ বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে শুধু রোগব্যাধি প্রতিরোধই নয়, আমাদের গ্রামগুলো হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সুস্থ ও সুন্দর।”
সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের সুপারভাইজার জাবেদুল আনোয়ার।
অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, নারী-পুরুষসহ কয়েকশত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শেষে অতিথি ও স্থানীয় জনগণ একযোগে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের শপথ পাঠ করেন।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আতশবাজির আলোয় উৎসবমুখর পরিবেশে।


