স্থানীয়দের বাধার মুখে ডাম্পিং স্টেশনে বর্জ্য ফেলতে না পারায় বুধবার সকাল থেকে রাঙামাটি পৌরসভার বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে পর্যটননির্ভর এই শহরজুড়ে জমে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, সৃষ্টি হয়েছে চরম জনদূর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০১ সাল থেকে শহরের প্রবেশমুখ রেডিও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনে বর্জ্য ফেলা হয়ে আসছে। তবে সময়ের সাথে ওই এলাকার আশপাশে গড়ে উঠেছে ঘনবসতি। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে পর্যটন নগরীতে প্রবেশের মুখেই ময়লার দুর্গন্ধে বিব্রত হচ্ছেন ভ্রমণকারীরা।

ডাম্পিং স্টেশন স্থানান্তরের দাবিতে স্থানীয়রা গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুর থেকে তারা ডাম্পিং স্টেশনের সামনে মানববন্ধন করে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে দেন। এতে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানায়, ডাম্পিং স্টেশনে বর্জ্য ফেলতে গেলে সেবাকর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে বুধবার সকাল থেকে শহরের কোথাও বর্জ্য সংগ্রহে নামেননি তারা। কর্তৃপক্ষের মতে, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা না গেলে সংগ্রহ করে কোনো লাভ নেই। এতে একটি এলাকার মানুষের সমস্যা হলেও এখন পুরো শহরের মানুষই দুর্ভোগে পড়েছেন।
অন্যদিকে, ডাম্পিং স্টেশন থেকে বর্জ্য কাপ্তাই হ্রদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে লোহার নেট দিয়ে বর্জ্য আটকে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, প্রকৌশল বিভাগের অবহেলার কারণেই উদ্যোগটি সফল হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এ ব্যবস্থা থাকলে বর্জ্য হ্রদে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো যেত।

বর্তমানে শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকায় ময়লার স্তুপ জমে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নগরবাসী দ্রুত কার্যকর সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিকল্প ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।


