জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘এই বাজেটের মাধ্যমে আমরা যে মৌলিক অর্থনৈতিক সংস্কারের আশা করেছিলাম, তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করি না। রাজনৈতিক সংস্কারের পর অর্থনৈতিক সংস্কার আসবেএমন প্রত্যাশা ছিল। বাজেটে কিছু সৃজনশীল উদ্যোগ দেখা গেছে। কিছু পণ্যে কর কমানো হয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক দিক। তবে আমাদের আশঙ্কা, এগুলোর অনেকটাই বাস্তবায়নযোগ্য হবে না।’
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদ্যুতের দাম যেভাবে বেড়েছে, তা নজিরবিহীন। এত অল্প সময়ে এত বড় পরিমাণে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কাল (শনিবার) চট্টগ্রামে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন এবং দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরার দাবিতে আমরা দেশের প্রতিটি বিভাগে কর্মসূচি পালন করছি। পুরো মাসজুড়ে সংসদে এবং সংসদের বাইরে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কথা বলব এবং কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দুর্নীতি। এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে, তার কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। বড় বাজেট মানেই বড় দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। বিভিন্ন কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারদলীয় এমপিরা যে ধরনের বরাদ্দ পাচ্ছেন, বিরোধীদলীয় এমপিরা তা পাচ্ছেন না। কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই, নেই স্বচ্ছতা। অর্থমন্ত্রীর পুরো বাজেট বক্তব্যে আমরা দেখতে পাইনি কীভাবে ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধার করা হবে। এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়নি।’
এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, গতকাল আমরা দেখেছি আদ-দ্বীন হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেখিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি সেখানে কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে অবশ্যই সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জায়গা থেকে জামায়াত কিংবা ১১ দলীয় জোটকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ব্যাংকিং খাত নাজুক অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন যদি ইসলামী ব্যাংকের প্রায় তিন কোটি গ্রাহক বা আমানতকারী মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর পড়বে। ফলে সামগ্রিকভাবে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো কোনো বাজেট এটি হয়নি।
তিনি বলেন, এস আলমসহ বড় বড় মাফিয়া অলিগার্করা ফ্যাসিবাদের পুষ্ট হয়ে জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে আছে, তাদের বিচারের আওতায় আনার কোনো বক্তব্য আমরা পাইনি। বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তবে আমরা শুধু সমালোচনা করছি না, আমরা বিকল্প প্রস্তাবনাও দিচ্ছি। আমাদের ছায়া বাজেট সেই প্রস্তাবনারই অংশ। সংসদে এবং সংসদের বাইরে আমরা এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরতে থাকব।
আ.লীগ প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। ট্রাইব্যুনালের বিচারের মাধ্যমে দলগতভাবে তাদের বিচার হবে। বর্তমানে আইনগতভাবেও দলটি নিষিদ্ধ রয়েছে। প্রশাসন যদি এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তা উদ্বেগজনক। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের বক্তব্য ও প্রচারণা চালানোর যে চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, সেটিও আইন লঙ্ঘনের শামিল। এ বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তিনি চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা যেহেতু চট্টগ্রামে এসেছি, তাই চট্টগ্রামের কথাও বলতে চাই। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো নগরী জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এটি চট্টগ্রামের অন্যতম বড় সমস্যা। নগরবাসীকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। তাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, তারা যেন দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে।


