শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
Single Top Banner

মাসুদ হত্যার নেপথ্যে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী চক্র, অভিযোগ গিয়াস উদ্দিন কাদেরের

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের আট দিন পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, সুপরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি চিহ্নিত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী চক্র জড়িত, যাদের অর্থায়ন ও পরিচালনা করা হচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে।

শনিবার (২০ জুন) সকালে রাঙ্গুনিয়ার বেতাগীতে নিহত যুবদল নেতা মাসুদের কবর জিয়ারত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, “মাসুদ আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহকর্মী ছিল। তাকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয়েরই বহিঃপ্রকাশ।”

চট্টগ্রাম অঞ্চলের অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তারা শুধু রাঙ্গুনিয়ার এই হত্যাকাণ্ডেই জড়িত নয়, রাউজান ও চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক হত্যাকাণ্ডের পেছনেও একই চক্র কাজ করছে। টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তারা খুন-খারাবি চালিয়ে যাচ্ছে।”

তদন্তের পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “এই সন্ত্রাসীদের সুতা কোথা থেকে নাড়ানো হচ্ছে, তা গভীর তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তাদের মূল চালিকাশক্তি ও অর্থায়ন সীমান্তের ওপার থেকে আসছে। স্থানীয় প্রশাসনও এ বিষয়ে অনেকাংশে অবগত বলে আমার ধারণা।”

এদিকে হত্যাকাণ্ডের আট দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অপরাধীরা গ্রেফতার না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পেশাদার খুনিদের দ্বারা এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। তারা হত্যার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, “একটি মূল্যবান প্রাণ চলে গেছে, তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে চট্টগ্রাম, বিশেষ করে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও মহানগরে আর কোনো জাতীয়তাবাদী কর্মী যেন এভাবে হত্যার শিকার না হন, সে জন্য প্রশাসনকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। খুন-খারাবির রাজনীতির এখানেই ইতি টানতে হবে।”

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিম, নিহত মাসুদের বড় ভাই ও সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন, নিজামুল হক তপন, রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম নুরুল হুদা চেয়ারম্যান, ফিরোজ আহম্মদ, হাবিবুল্লাহ মাস্টার, শফি কমান্ডার, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনিসুজ্জামান সোহেল, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছোটন আজম, ছাত্রদল নেতা লিটন মহাজন, তসলিম উদ্দিন, ইউছুপ তালুকদারসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং ১১ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে রাউজান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনিদের স্পষ্ট ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের একাধিক বিশেষ টিম অপরাধীদের গ্রেফতারে কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার চুয়েট সংলগ্ন পাহাড়তলী বাজার এলাকায় যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে এক যুবক মাসুদকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা ঘটনার পর দ্রুত পালিয়ে যায়।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত