বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠায় ঢাবিকে অনুসরণ করবে অন্যরা, আশা প্রধানমন্ত্রীর

চেতনা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গবেষণা ছাড়া কোনো উন্নতি সম্ভব না। গবেষণাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। আমার একটাই আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যে মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠা দরকার সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হবে। এবং বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তা অনুসরণ করবে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শতবর্ষ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘সেলেবরেটিং ১০০ ইয়ার্স অব দ্য ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা : রিফ্লেকশন্স ফ্রম দ্য অ্যালামনাই-ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ন্যাশনাল’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাবি শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। কিন্তু আমি করোনার কারণে স্বশরীরে উপস্থিত হতে পারিনি। এটা আমার জন্য খুবই কষ্টের। ইতোমধ্যে করোনার ভ্যাকসিন চলে এসেছে। এজন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। টাকায় কেনা ভ্যাকসিনও দেশে পৌঁছাবে এ মাসের ২৪ তারিখ চলে আসবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই, এই বিশ্ববিদ্যালয় আবার তার গৌরব ফিরে পাবে। এখানে জ্ঞানের চর্চা হবে, গবেষণা হবে, শিক্ষার প্রসার ঘটবে। এবং তার আলো ছড়িয়ে পড়বে সারা বাংলাদেশে। আমরা চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে হবে না। এটি একটি প্রতিষ্ঠান যা সমগ্র বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ মানবসম্পদ দরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এটি শুরু হবে। কেননা এই বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য মাস্টারপ্লান করা হয়েছে। যেহেতু এটি পুরাতন একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এখন তার ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। আমার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাবে। অন্তত অ্যালামনাই হিসেবে আমি এটা বলতে পারি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই দিন আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। বিশেষ করে সাবেক ছাত্রী হিসেবে আমাকে এখানে বক্তব্যের সুযোগ করে দেওয়ায় আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। ১৯২১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, ধানমণ্ডি, এসব জায়গাকে হামলার জন্য বেছে নিয়েছিল পাকিস্তানিরা। আমাদের রাজনৈতিক অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকার, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার বিশেষ করে স্বাধীনতা অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবদান রেখেছে। আমরা যদি প্রত্যেকটা অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে দেখি, তার সবই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে সংগ্রাম করেছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমরা আরো অগ্রসরমানতা দেখতে চাই। এটি সত্য, শিক্ষা ও গবেষণার দিক থেকে বৈশ্বিক মানের বিবেচনায় আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারিনি। এটির উত্তরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়িত্ব নিতে হবে। কেননা শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। তাই আমাদের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করে সময় উপযোগী কার্যসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈশ্বিক সূচকে আশাব্যাঞ্জক ভূমিকা রাখতে হবে। আমি আশা করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফল হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বিশেষ মর্যাদা’ পাওয়ার প্রত্যাশা করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। বিভিন্ন দেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো ঢাবিও এই আশা রাখে। যেটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। এজন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় গর্বিত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু এই বিশ্ববিদ্যালয়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল, তিনি তাও বাস্তবায়ন করবেন।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ভারত ভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তান যখন পূর্ব পাকিস্তানকে শাসনের নামে দুঃশাসন করে তখন এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সবার আগে প্রতিবাদ করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে অনেকেই জীবন দিয়েছিলেন। এর বিনিময়ে পেয়েছি আমরা একটি স্বাধীন দেশ। এর পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দেশের উন্নয়নে নানাভাবে অবদান রাখেন।

রেহমান সোবহান বলেন, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা, পড়াশোনার পরিবেশ, গবেষণা ব্যবস্থা সব কিছুই আছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন আমাদের সৃজনশীলতা এবং মূল্যায়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রেহমান সোবহান বলেন, দেশে এখন ৮০টির অধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ ইংলিশ মিডিয়াম। এখানে মধ্যবিত্ত ও এর ওপরের শ্রেণিরা পড়াশুনা করার সুযোগ পাচ্ছে। সেখানে আবার বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষকেরাও ক্লাস নেন। এর ফলে সেখানে গবেষণা ও মানের দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কিছুটা পিছিয়েছে। এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখনো বাংলা মিডিয়ামের। বাজেট ও গবেষণায় বরাদ্দ তুলনামূলক কম। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার মর্যাদা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত