রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
Single Top Banner

নিজের ইচ্ছায় নয়, জনগণের ইচ্ছায় দায়িত্ব নিয়েছি: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নিজের ইচ্ছায় নয়, বরং দেশের জনগণের ইচ্ছায় তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

ড. ইউনূস বলেন, এটা তার নয়, বরং পরিবর্তনকামী মানুষের চাওয়া। তারা যেভাবে চলতে চান, তিনি শুধু সেভাবে সহায়তা করছেন। দায়িত্ব পালনে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই এটিকে ব্যাহত করতে চায়। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত রাজনৈতিক উপাদানগুলো পুরো ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, গত দেড় দশকে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছেন, তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। কেউ ১০ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন, কেউ ১৫ বছর ধরেও। তার ভাষায়, “একবার ভাবুন, আপনার বয়স ১৮ হয়েছে, ভোট দিতে আগ্রহী। কিন্তু আপনি সেই সুযোগ কখনো পাননি। কারণ সত্যিকার অর্থে কখনো নির্বাচনই হয়নি। এখন তারা ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার ভোট দিতে পারবেন।”

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানে আসিয়ানের প্রভাব কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা আশ্রয়ে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও আসিয়ানে নেতৃত্বপূর্ণ অবস্থান আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে দেশটিকে অনন্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মালয়েশিয়া পুরো আলোচনায় তার প্রভাব কাজে লাগাবে।

তিনি আরও জানান, গত ১৮ মাসে নতুন করে দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারা আগে থেকে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের দেখভালের সব তহবিল বন্ধ করে দিয়েছে, যা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন করে তুলছে।

ড. ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে আগামী কয়েক মাসে তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর প্রথমটি হবে চলতি মাসের শেষের দিকে কক্সবাজারে। দ্বিতীয় বৈঠক সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হবে। আর তৃতীয় সম্মেলন হবে বছরের শেষদিকে কাতারের দোহায়।

বারনামার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সাল থেকে মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কোনো অগ্রগতি লাভ করেনি। দীর্ঘায়িত এ মানবিক সংকট শুধু বাংলাদেশ নয়, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াসহ আসিয়ানের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রকেও প্রভাবিত করছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত