পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর অংশ হিসেবে সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ট্রাকসেলের মাধ্যমে কম দামে পণ্য বিক্রি করা হয়। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ক্রেতাদেরও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতে দেখা গেছে।
সোমবার (১১ মে) বিকেল ৩টা থেকে রাউজান পৌরসভার সামনে টিসিবির এ কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় ডিলার ‘মেসার্স পাহাড়তলী এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে প্রায় ৪০০ জনের কাছে ভর্তুকি মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করা হয়। বিক্রি কার্যক্রম শুরুর আগেই ট্রাকের সামনে নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং সুশৃঙ্খলভাবে পণ্য সংগ্রহ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যেও টিসিবির পণ্যের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।

টিসিবির এ ট্রাকসেলে একজন ক্রেতা নির্ধারিত মূল্যে তিন ধরনের পণ্য কিনতে পারেন। এর মধ্যে ছিল এক কেজি চিনি ৮০ টাকা, দুই কেজি মশুর ডাল (প্রতি কেজি ৭০ টাকা) হিসেবে মোট ১৪০ টাকা এবং দুই লিটার সয়াবিন তেল (প্রতি লিটার ১৩০ টাকা) হিসেবে মোট ২৬০ টাকা। সব মিলিয়ে একজন ক্রেতা ৪৮০ টাকায় এসব পণ্য সংগ্রহ করেন।
পণ্য কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজারে একই পণ্য কিনতে গেলে তাদের আরও বেশি টাকা খরচ করতে হয়। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে বাজারে অনেক পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় টিসিবির এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশি ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু করা হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো উপকৃত হবে। তারা টিসিবির পণ্য বিক্রির পরিধি ও সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান।
এদিকে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি করা হয়। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে একজন তদারকি কর্মকর্তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থেকে বিক্রি কার্যক্রম তদারকি করেন।
এ প্রসঙ্গে টিসিবির স্থানীয় ডিলার পাহাড়তলী এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মো. নাছির উদ্দীন বলেন, ‘‘সোমবার রাউজান পৌরসভার সামনে ৪০০ জন মানুষের কাছে এ পণ্য বিক্রি করা হয়। ভর্তুকি মূল্যে পণ্য কিনতে পেরে লোকজন স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।”


