পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ৩নং পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে সরকারি বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে সরকারের এই মানবিক সহায়তা বিতরণে চরম অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। চাল বিতরণের চিত্র দেখে খোদ স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
উপযুক্ত ব্যক্তিরা বঞ্চিত, বিত্তবানদের হাতে সরকারি চাল
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০ কেজি করে সরকারি চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদে ভিড় করেছেন এমন অনেক ব্যক্তি, যারা কোনোভাবেই এই চাল পাওয়ার উপযুক্ত নন। এলাকার অনেক সচ্ছল ও বিত্তবান পরিবারকে এই দুস্থদের চাল নিতে দেখা গেছে। অথচ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কার্ডের জন্য ঘুরেও অনেক প্রকৃত অভাবী, বিধবা ও দিনমজুর পরিবার খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। যারা পাওয়ার যোগ্য, তাদের অনেকেই তালিকায় স্থান পাননি।
একজনের হাতে ৩-৪টি কার্ড!
সবচেয়ে বড় অনিয়ম ও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, বিতরণের সময় দেখা গেছে একজন ব্যক্তিই বুক ফুলিয়ে ৩ থেকে ৪টি কার্ড নিয়ে চাল তুলছেন। যেখানে এক একটি পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল পাওয়ারই নিয়ম, সেখানে একজন কীভাবে একাধিক কার্ড পেলেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।
দায় এড়ানোর চেষ্টা প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের
কার্ড বিতরণে এমন হরিলুট ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে পদুয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী সম্পূর্ণ দায় চাপান রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর।
তিনি বলেন: “এখানে আমাদের (পরিষদের) কোনো হাত নেই। ইউপি সদস্য ছাড়াও বিএনপি ও জামায়াত কার্ড বিতরণ করেছে। যার কারণে একই পরিবারের হাতে দুই থেকে তিনটি কার্ড চলে যাচ্ছে। ফলে যে সমস্ত দুস্থ-অসহায় পরিবারের এই চাল পাওয়ার কথা, তারা বঞ্চিত হচ্ছে।”
একই সুরে নিজের অসহায়ত্ব ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউপি সদস্য এহেসান। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণে সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধিদের ভুল বুঝছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন: “রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আমরা নিজেরা কার্ড দিতে পারছি না। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। আগে যে পরিমাণ কার্ড আমরা (ইউপি সদস্যরা) পেতাম, এখন রাজনৈতিক ভাগাভাগির কারণে তা পাচ্ছি না। ফলে আমরা এলাকায় সঠিক দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চালের কার্ড বিতরণ করতে পারছি না।”
‘আমরা হুকুমের গোলাম’—বললেন চৌকিদার পরিষদের এমন হ য ব র ল অবস্থায় অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মচারীরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের একজন (গ্রাম পুলিশ) আক্ষেপ করে বলেন: “আমরা অসহায়, আমাদের করার কিছু নেই। কেউ যদি ৪টা কার্ড নিয়েও আসে, আমরা বাধ্য হয়ে তাদের চাল দিচ্ছি। কারণ তারা কার্ড জমা দিয়ে এবং টিপসই দিয়েই চাল নিয়ে যাচ্ছেন। যারা কার্ড নিয়ে আসবে, আমরা শুধু তাদেরই চাল দেবো—আমরা তো হুকুমের গোলাম!”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি ত্রাণ সহায়তায় এমন রাজনৈতিক দলবাজি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করে অবিলম্বে প্রকৃত দুস্থদের তালিকা প্রণয়ন করা হোক এবং এই অনিয়মের পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


