শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
Single Top Banner

বন্যায় ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম অঞ্চল বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি জেলার সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বিষয়ে আজ বিস্তারিত তথ্য প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে দেশবাসীর নিকট তুলে ধরা হয়।

বন্যা পরবতী উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের সমন্বয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ সার্কিট হাউজে এ প্রেস ব্রিফিং করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পুনর্বাসন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার তিনটি প্রধান দিক হলো- জরুরি গৃহনির্মাণ ও সংস্কার অনুদান প্রদান, ক্ষতিগ্রস্তদের আধুনিক সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান, দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো পুণনির্মাণ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বিষয়ে তিনি বলেন , চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ উপজেলা, কক্সবাজার জেলার রামু, পেকুয়া, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, জুড়াছড়ি ও কাউখালী উপজেলা, খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা, মহালছড়ি, খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা, বান্দরবান জেলার বান্দরবান সদর, নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও রুমা উপজেলায় বন্যার তীব্রতা বেশি দেখা গেছে। মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬০ জন এবং আজ পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রসমূহে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৭৫০ জন। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়াই ইতোমধ্যে অনেকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।

বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষি, মংস্য ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমির পরিমাণ ৪৪ হাজার ৭৯৩ হেক্টর এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩৫ জন কৃষক। মৎস্য খাতে ২৩ হাজার ৬১০ টি পুকুর, দীঘি ও খামার এবং ৭৮৯ টি ঘের প্লাবিত হয়েছে। এ খাতে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ২১০ কোটি টাকা। এলজিইডির প্রায় ৫৫৫ কি.মি. দৈর্ঘের সড়ক ও ২৩৫ টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার আনুমানিক মেরামত খরচ প্রায় ৪২৩ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ২১২ কি.মি. সড়ক, ৫ টি ব্রিজ ও ১ টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার দীর্ঘমেয়াদি মেরামত ব্যয় প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা। তিনি বলেন, এসব ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের ত্রাণ সহায়তা বিষয়ে তিনি বলেন, ৫ জেলায় মোট ২ হাজার ১০৬ মেট্রিক টন চাল, ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীগণ সার্বিক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরসমূহ হতে প্রাপ্ত ত্রাণসমূহ যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে, ১৭ জুলাই শুক্রবার থেকে বান্দরবানের স্পটগুলোও খুলে দেওয়া হবে।

বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বানভাসী মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সাথে আলোচনাক্রমে বিভিন্ন এনজিও কর্তৃক জুলাই মাসে কিস্তির টাকা আদায় কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি এবং ওএমএস কার্যক্রম এক মাস এগিয়ে আনা হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিপর্যয় সাময়িক- আমাদের সম্মিলিত সাহস ও সঠিক পরিকল্পনা দীর্ঘস্থায়ী। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন তহবিল মজুত রয়েছে। মাঠ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে আমরা খুব দ্রতই এ ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন, জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন ।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত