রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, তিনি আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টায় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগের পর রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে ওঠার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর করতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। এদিকে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের আগেই শুক্রবার দেশে ফিরেছেন। যদিও সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের প্রক্রিয়ার সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের সম্পর্ক থাকতে পারে।
এর আগে বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নীতিগতভাবে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মনোনীত কয়েকজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত মালামাল গুছিয়ে নেওয়া শুরু করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েক দিন আগে রাষ্ট্রপতি অধস্তন কর্মকর্তাদের চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তার দাবি, পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি গুলশানের নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন। এরপর স্বাস্থ্যগত কারণে চিকিৎসা ও বিশ্রামের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে সরকার কিংবা রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময় তিনি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সর্বশেষ তিনি বলেছিলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। তবে তার সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং গুলশানের বাসভবনে ওঠার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।


