বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

আগস্টের পর চট্টগ্রাম মহানগরের আওতাধীন থানা ও কলেজ পর্যায়ে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার: শোকের মাস আগস্টের পর চট্টগ্রাম মহানগরের আওতাধীন থানা পর্যায় ও কলেজ পর্যায়ে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হবে। ১০টি থানা ও তিনটি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করতে কাজ শুরু করেছে মহানগর ছাত্রলীগ।

কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া থানাগুলো হলো- কোতোয়ালী, বাকলিয়া, সদরঘাট, চকবাজার, বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, খুলশী, পাহাড়তলী, হালিশহর, ইপিজেড। এছাড়া তিনটি কলেজ হলো- সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ, সরকারি কমার্স কলেজ ও সরকারি সিটি কলেজ।

ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের আওতাধীন পাঁচটি থানা ছাত্রলীগের কমিটি ও একটি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। কমিটি ঘোষণা করা থানাগুলো হলো- চান্দগাঁও, ডবলমুরিং, আকবরশাহ, বন্দর ও পতেঙ্গা।

এছাড়া ঘোষণা করা হয় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি।

এসব কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রলীগের একটি পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন করে।

তারা এসব কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি জানায়। এছাড়া কমিটিতে অস্ত্রধারী, বিএনপি পরিবারের সদস্য পদ পেয়েছে দাবি করে তা বাতিলের দাবি জানায় ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।

এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তদন্ত কমিটিও করে। কিন্তু তদন্ত কমিটির কী সুপারিশ ছিল বা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল কী না তা জানা যায়নি।

২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর ইমরান আহমেদ ইমুকে সভাপতি ও নুরুল আজিম রণিকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৪ সদস্যের চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ২০১৪ সালের ১১ জুন ২৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি পদত্যাগ করলে জাকারিয়া দস্তগীরকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ওই কমিটিতে ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জাকারিয়া দস্তগীর।

গত ১৯ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, সাংগঠনিক গতিশীলতা আনতে শোকের মাস আগস্টের পর চট্টগ্রাম মহানগরের আওতাধীন থানা পর্যায় ও কলেজ পর্যায়ে ছাত্রলীগের কমটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ১০টি থানা ও তিনটি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করতে কাজ করছি আমরা।

জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, এর আগে পাঁচটি থানা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কমিটি ঘোষণার পর একটি পক্ষ বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করেছিল। আমরা এসব বিষয় মাথায় রেখে কাজ করছি। চেষ্টা করছি যাতে অনুপ্রবেশকারী কেউ ছাত্রলীগের কমিটিতে ঢুকতে না পারে।

তিনি বলেন, থানা ছাত্রলীগের অনেক কমিটি ৮০ ও ৯০’র দশকের। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি ছাড়া থাকলে নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগবে ছাত্রলীগ। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা কমিটি গঠন করবো।

জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠন শেষে আমরা মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করছি। আমরা চাই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসুক।

তবে এভাবে কমিটি ঘোষণা না করে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের পদধারী নেতারা।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারুক ইসলাম বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কমিটি করা উচিৎ। কিন্তু তা হতে হবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, গ্রহণযোগ্য কর্মীদের দিয়ে। অসুস্থ প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হোক। সমন্বয় ছাড়া বিতর্কিতদের হাতে ফের নেতৃত্ব তুলে দিলে তা কিছুতেই মেনে নিবে না তৃণমূলের কর্মীরা।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিথুন মল্লিক বলেন, আমাদের মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি হয়েছে সাত বছরের বেশি সময় হয়েছে। মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিরও মেয়াদ নেই। আগে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠন করা উচিত। নতুন নেতৃত্ব উঠে আসুক সেটা চাই।

মিথুন মল্লিক বলেন, থানা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সাধুবাদ জানাই। কিন্তু কমিটি গঠন করতে গিয়ে যাতে নিজের অনুগতদের দিয়েই শুধু কমিটি করা না হয়। যারা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং নিয়মিত ছাত্র তাদের দিয়ে যেন কমিটি করা হয়। তাহলে আর বিতর্ক তৈরি হয় না। কিন্তু যদি ইনটেনশনালি কোনো ত্যাগী কর্মীকে বাদ দেওয়া হয় তা আমরা মেনে নেব না।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত