বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

ডা: সা ই ম পজির উদ্দিন চৌধুরীর আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি ডাঃ সা,ই,ম পজির উদ্দিন চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পূর্ণ হলো। সময় কতো দ্রুত গতিতে প্রবাহমান।

মনে হচ্ছে এ তো সেদিন তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন। সদা হাসিখুশি প্রাণবন্ত সদালাপী অমায়িক প্রিয় মানুষটার মুখখানা স্মৃতির মানসপটে ভেসে উঠল। সে সাথে টুকরো টুকরো কিছু স্মৃতি মনে পড়ল। সেদিনের জলজ্যান্ত মানুষটা আজ স্মৃতির ফ্রেমে বন্দী।

নির্লোভ নিরহংকারী ডাঃ পজির উদ্দিন চৌধুরী সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। বিলাসী আয়েশী জীবন না কাটিয়ে এলাকার গরীব দুঃস্থ অসহায় রোগীদের সেবায় আমৃত্যু নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। সংগত কারনে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

আজকাল ডাক্তারদের হাবভাব দেখে মনে হয় তারা এক একটা সাক্ষাৎ কসাই। রোগীদের কাছ থেকে উচ্চহারে ভিজিট আদায়, ল্যাব টেস্ট এর কমিশন, অবান্চিত পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রদান, অপ্রয়োজনীয় সিজার অপারেশন, ভূয়া রিপোর্ট প্রদান সহ বিবিধ অনৈতিক পন্থায় রাতারাতি লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক বনে যান।

এ ধরনের অনৈতিকতায় তিনি কখনো গা ভাসাননি। আমাদের গুনেধরা সমাজ ব্যবস্হায় ডাঃ পজির উদ্দিন চৌধুরীর মতো মানুষের বড্ড অভাব। তাঁর খন্ড খন্ড দু’একটা স্মৃতি চারণ করতে ইচ্ছে করছে আমারঃ

১. সময়টা নব্বই এর দশকের মাঝামাঝি। সেদিন শবেবরাত এর রাত ছিল। স্হানীয় মুসাখাঁন মসজিদে অনেকের মত আমিও আমার নানা নানীর কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম। ঐ রাতে নিয়মিত মুসল্লীদের তুলনায় শিশু কিশোর মুসল্লীর সংখ্যা একটু বেশি থাকে। ঐ সময় ভীড়ের মধ্যে মসজিদের শান বাঁধানো ঘাটে দুজন যুবকের মধ্যে তুমুল ঝগড়াঝাটি হলো। একজনের হাতে থাকা টর্চলাইটের আঘাতে অন্যজনের মুখ এবং মাথায় ভীষণ আঘাত প্রাপ্ত হলো। মাথা ফুলে সুপারীর মত হয়ে গেলো।ঝগড়াকারী দু’যুবকের বাড়ি ছিল পাশাপাশি পাড়ায়। দূর্ভাগ্যবশত মারাত্নক আহত যুবক ছিল ডাঃ পজির উদ্দিন চৌধুরীর নিকটতম প্রতিবেশী।

এমন সময় ডাঃ পজির উদ্দিন চৌধুরী মসজিদে আসলে মারপিটের ঘটনা দেখতে পান। আহত যুবকের অবস্থা দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হন। ঝগড়াঝাটি না করার জন্য উভয়কে বকাবকি করেন। কিন্তু চাইলে হামলাকারী যুবকের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন।

২. ডাঃ পজির উদ্দিন চৌধুরী একটা ৫০ সিসি ভেসপা মোটরসাইকেল চালিয়ে রোগী দেখতে যেতেন। সম্ভবত ১৯৯০ সাল একদিন দেখি ডাঃ পজির উদ্দিন চৌধুরী স্হানীয় হুলাইন ছালেহ নূর কলেজ এর মাঠে মোটরসাইকেল চালানো শিখতেছিলেন। শেখার কোন বয়স নেই। বার্ধক্যে এসে ও তিনি অদম্য মনোবলে মোটরসাইকেল শিখে আজীবন রোগীর সেবা দিয়ে গেছেন।

৩. ১৯৯৭ সাল। তখন আমি নুতন বিয়ে করেছি মাত্র।আমি তখন চট্টগ্রাম শহরের বাদুরতলা জংগী শাহ মসজিদ লেনের শেষ মাথায় মানে খালের পাশে বসবাস করছি। একদিন বাসার সামনে রাস্তায় ডাঃ পজির উদ্দিন চৌধুরীর সাথে দেখা। উনার বাসা ও ঐ এলাকায়। আমার সহধর্মিণীকে দেখে খুব খুশি হলেন। উনার বাসায় দাওয়াত করলেন। অথিতিপরায়ন এ মানুষটা বলে গেলেন – নাতি আমার নাতনিকে নিয়ে অবশ্যই আমার বাসায় যাবে। আজ ও তাঁর সে কথা আমার কানে বাজে।

আল্লাহ পাক এ মহৎপ্রাণ সাদা মনের মানুষটাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। আমিন।
মোঃ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী
প্রবাসী, আবুধাবি, ইউ,এ,ই।

(আপাদমস্তক সাদা মনের মানুষ এবং আত্ম প্রচার বিমুখ নিভৃতে আলো ছড়ানো ডা: সা ই ম পজির উদ্দিন এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী তে শ্রদ্ধাষ্পদ স্মরণে তাঁর ভক্তের ওয়াল থেকে)

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত