নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন নামের ঝুলন্ত থলি থেকে, (পর্ব-১০) !
বহুল প্রচারিত দৈনিক “জনকন্ঠ পত্রিকার শিক্ষাসাগর পাতা” টি অগণিত বার চুরি করেছি, ঠিকই মনে পড়ে, কিন্তু কক্ষনোই স্বীকার করেছি বলে মনে নাই। একইভাবে বহুল প্রচারিত ও জনপ্রিয় দৈনিক খবরের কাগজ, (যা বিটলা আমল থেকেই প্রত্যহ ঘরির কাঁটায় হেড়ফের (বিহীন) দৈনিক “আজাদী” পত্রিকায় প্রতি মঙ্গলবার (সম্ভবত:) শিশু-কিশোরদের বিশেষ শিক্ষণীয় রম্য পেইজ “আজ মিশালী” বের হতো। ইচ্ছা মতোই লিখা-লিখি, আর ওসব লেখা পাঠিয়ে দেয়া হতো, বিভাগীয় সম্পাদকের ঠিকানায়।
কতোশতো প্যঁচপেঁচি খোঁচাখুঁচি চলতো ওসব লেখায়..! আর কয়েক সপ্তাহের পেইজে যদি আংশিকও না ছাঁপা হতো তাইলেতো (!), বিভাগীয় সম্পাদক সাহেব যে ক্যেমনে এতো গালি’র প্যঁচালী সহ্য করতেন, মাবুদ আল্লাহ্’ই মালুম। কর্মজীবন এর এই বয়সে এসেও একাকী মনের অজান্তেই ওসব হাসায় আজো। “আজাদী” পত্রিকার মাননীয় চীফ্ রিপোর্টার শ্রদ্ধাভানেষু হাসান আকবর ভাই সামনে পড়লেই, যেনো অবচেতনেই ওসব ভেসে উঠতে থাকে মনে, আর অকারণ পেতে থাকা হাঁসি রীতিমতো সামলানো সহজ নয়, একদিন তো ভাই বলেই দিলেন ‘অমনি হাঁসির কী’ (?), লজ্জিত হয়ে সামলে নিয়ে ছিলাম। এই’তো ক’দিন বিগত হলো, শ্রীমতি করোনা ম্যেডাম তখনো আসেননি, “সূর্যসেন টু ডঃঅনুপম সেন” শিরোনাম এ ডকুমেন্টারী প্রকল্প বেশ ফুরফুরে মেজাজে এগিয়ে যেতেই প্রাথমিক ধাপের মাঝামাঝি খবর এলো ধলঘাটের মশাল খ্যাত সাহিত্য ও শিক্ষায় উজ্জ্বল নক্ষত্র, পরম শ্রদ্ধা ভাজনেষু কবি ‘জনাব অরুন দাশ গুপ্ত’ মহাশয় এর অবস্থা অবনতির দিকে এবং যেকোনোও মূহুর্তেই তিনি ভারত গমনের সম্ভাবনা রয়েছে।
পড়িমড়ি করে বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক জনাব রবিন কাকা এবং বিশিষ্ট কবি জনাব আশীষ সেনগুপ্ত কাকা’র পবিত্র সাহচর্য্যে দু:সাহসিক ঢুঁ মেরে দিলাম। সামনে বসে আছেন আপাদমস্তক বয়সের ভারে ন্যূজ, জীবন্ত কিংবদন্তী কবি ‘জনাব অরুন দাশ গুপ্ত’। আমি বেশ সাহসের সাথেই কথা বলার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম, একদিকে ইন্টার্ভিউ কাজে আমি অভ্যস্থ নই। অপরদিকে যে ক্ষুঁদে বিদ্যোৎসাহী মানুষ’টার সামনে বসে পেশাদারিত্বের অভিনয় করে যাবার প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম, জ্যান্ত সচল একটা 4.k ক্যেমেরার সামনে স্বপ্নের মতোই মনে হচ্ছিলো রীতিমতো। নিজেকে খুউব সংযত ভাবেই আদব রক্ষায় ব্যস্ত অথচ ঘর্মাক্ত অবস্থা।
এরই ধারাবাহিক আলাপ চারিতায় কোন্ ইস্যূতে যে প্রসঙ্গত: আমিই কি’নাহ্ বলে বসলাম স্যার “আজ মিশালী” (বলতেই হঠাৎ ভয়ে গাঁ থরো থরো কাঁপুনি শুরু, মনে হচ্ছিলো যেনো ঐ বিভাগীয় সম্পাদক’কে গালি দিয়েছিলাম, কৈশোরের পাপ বুঝি জ্যন্ত প্রতিশোধের আগুন সমেত হাজির.!) আমাকে আজও গতিময় অনুপ্রেরণা যোগায় লিখতে, কিন্তু গঠনমূলক- পঠনযোগ্য লিখার যোগ্যতা যে আমার নেই(!), আপনার মূল্যবান কোনো দেসনা, যদি আমার হাত’কে যথাযোগ্য লিখনী শক্তি যোগায় (!) চটজলদি উত্তর ছিলো এই যে, “যা তুমি বললে, এটা কলমে লিখে দেখো, দেখবে অনেক ভালো যোগ্যতম তুমি”..! আপ্লুত হয়েই প্রণাম করলাম, আশীর্বাদ নিলাম।
বললাম, স্যার সত্যি আমি লিখতে চেষ্টা করে যাবো, তবে ! আমাদের গৃহীত প্রকল্প সূর্যে’র মুখ দেখবে তো ? অনুপম স্নিগ্ধতায় উদ্ভাসিত করবে তো !!
আপামর জনসাধারণের জন্য কার্যকরী ভূমিকায় এর বাস্তবায়ন করতে আদৌ সক্ষম হবো তো, স্যার..!! “সেটা তুমিই পারবে, আমি লিখে দিতে পারি”(!), দ্ব্যর্থহীন ভাবেই কোনোও এক অজ্ঞাত দৃপ্ত কন্ঠস্বর বেজে উঠলো কোনো রকম কথা বলতে পারা জ্ঞানগর্ব আমাদের প্রবীন এই অভিভাবক এর দৃপ্ত কণ্ঠে ..!!
আমায় অণুপ্রাণিত করে এ যুগের নির্মোহ গো-বেচারা, অথচ নিরঙ্কুশ নির্ভরতার লেশহীন প্রতীক কবি ও প্রাবন্ধিক রবিন ঘোষ, কবিতার প্রাণ…(অসম্পূর্ণ)


