নিজস্ব প্রতিবেদক: পটিয়ায় “শহীদ ছবুর শিশুতোষ পাঠাগার” এর সৌজন্যে শহীদ ছবুরের ৪৯ তম শাহাদাত দিবস সম্পন্ন।
লোমহর্ষক স্মৃতির নীল বেদনার উত্তাল ঢেউয়ের বিপরীতে যুদ্ধজয়, লাল সবুজের ছিনিয়ে আনা স্বাধীনতার বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে ঘরে ঢুকলেও, ইতিহাস এর চোরাবালিতে ধুঁকে ধুঁকে ধারণ করা ব্যথিত হৃদ কাঁপুনি ইতিহাস পড়তেই যেখানে আপাদমস্তক শিউরে উঠে গাঁ, বাকরুদ্ধ হয়ে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় পড়তে হয়, তৃষ্ণার্ত ইতিহাস পিপাসু দের ! অথচ গরগর করে অনর্গল যাঁরা হৃদয় ভাঙ্গার গগন বিদারী চারিত করে যেতে সক্ষম, শহীদ ছবুর’দের (!) স্বাধীনতার লাল গ্যরান্টি দিয়ে বিদায় নিতে প্রত্যক্ষ করবার ন্যায়, সাহসিকতা পূর্ণ, অথচ নিভৃতে নিরলস নির্মোহ ভালোবাসায় চটজলদি ছায়ার মতো মহৎ মানুষ গুলোকেই সম্ভবত: ইতিহাস এর কিংবদন্তি আখ্যা দেয়া হয় ! তবে কিংবদন্তি’র কলম থেকেই আমাদের শুদ্ধ স্মৃতির নীল বেদনার সম্ভারে সমৃদ্ধি ঘটাতে চেষ্টা, তাই .. !!
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতা চৌধুরী মাহবুবুর রহমানের স্মৃতিতে শহীদ সবুর..!
২’রা অক্টোবর, ৭১ শনিবার সকালে আমি আর প্রয়াত নাসির (ইউসুফ ভাইয়ের ভাই) বরকল জনাব শাহজাহান ইসলামাবাদীর থেকে কিছু এমুনেসান আনার জন্য ভোরে বেরিয়ে গিয়ে কিছু এমুনেসান সহ ভুর্ষী শেল্টারে ফিরে আসার পর সামসুদ্দীন ভাই ভট্টাচার্য্য হাটে অপারেশানের কথা বলাতে, স্টেনগানটা বাজারের থলেতে নাসিরকে দিয়ে সর্বজনাব সামসুদ্দীন, আমি মাহাবুব চৌধুরী, ছফা চৌধুরী, জহির চৌধুরী, সালাম চৌধুরী সহ ভট্টাচার্য্য হাটে পৌঁছাই।অস্ত্রটা নিয়ে আমি আর নাসির অনিল ঘোষের চায়ের দোকানে বসা ছিলাম, বাকিরা হাটে হাটাচলা করতেছিল, সামসুদ্দীন ভাই ঢুকে স্টেনটা তার হাতে নিয়ে বের হবার কথা বলাতে বেরিয়ে যাই, মনু হাসিল উঠাইতে ছিল।
সামসুদ্দীন ভাই সবুরকে মনুকে দেখিয়ে দিয়ে ধরতে বলার সাথে সাথে সবুর পিছন থেকে মনুকে ধরে ফেলে, সামসুদ্দীন ভাই, মনুকে হাট বলতে ১৮ টা গুলি বেরিয়ে ১৮ টা মনুর গায়ে বিদ্ব হয়ে ৬ টা সবুরের শরীরে সামনে ঢুকে পিছনে বেরিয়ে যায়, সবুরকে ধরাধরি করে পাশে একটা বাড়িতে (জনমানবশূন্য) উঠানে লজ্জাবতী গাছের উপর শুইয়ে দিই, আহমদ ছফাকে বুলেটবিহীন স্টেনটা সহ কৌশলে দাড় করিয়ে রেখে সালাম, জহির, নাসিরকে রাইফেলগুলো আনতে এবং আসার সময় ভুড়িপাড়া এবাদতখানা থেকে বাশের মাচাংটা নিয়ে আসতে বলি, ইতিমধ্যে কৃষক সমিতির নেতা জনাব নবী (আফিয়ার বাপ) একটি কাঁচের বোতলের স্যালাইন সহ হাঁতুড়ে ডাক্তার নিয়ে স্যালাইন পুশ করান, স্যালাইন বেরিয়ে যাচ্ছিলো।সবুর তার মাকে দেখতে চেয়েছিলো, বলছিলো আমি মরে যাবো, কিন্তু দেশ স্বাধীন হবে। কিছু সময়ের মধ্যে সবুর মারা যায়।
আমি একা দাঁড়িয়ে তার বিদায়ের দৃশ্যটা দেখে থাকি, বিমর্ষ সামসুদ্দীন ভাইকে সহ লাশ নিয়ে খিল্লাপাড়া ফরেস্ট অফিসে পৌছি, আওয়ামী লীগ নেতা গনি কাইতংয়ের সহযোগিতায় কবর খুড়ে লুঙি দিয়ে কাফন-দাফনের কাজ সমাধা করা হয়, হাটে বাজার করতে আসা আমাদের বাড়ির জনাব জাফরকে লাশ দাফনে সহযোগিতা চাওয়াতে তার বাজারের থলেটা বাড়ির তামাক বিক্রেতা মিয়াদাকে দিয়ে পাঠিয়ে দিয়ে সাথে আসছিলেন।

দাফন শেষে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে বললেন। সামসুদ্দীন ভাই, ছফা, সালাম, নাসির খিল্লাপাড়া রয়ে গেলো।আমরা নামার পথে, ব্যাংকের সামনে শোরগোল শুনাতে ক্রুলিং করে পাশ দিয়ে রতনের দিঘীতে উঠে বাড়ি আসি। জাফর সাহেব বাড়িতে ঢুকে যাওয়ার পর, আমি ও জহির আমির ভান্ডার দরবারে (ছোট শাহজাদা মৌলানা হারুনর রশীদ আমিরী) হুজুরের রুমে কাটিয়ে সকালে ফরেষ্ট অফিসে পৌছাই। ৪ দিনের ফাতেহার দিন গনি কাইতং, রসিদ মেম্বার, মাঝির পাড়ার আহমদ ছফা সহ ছাগল জবেহ করে কিছু মিসকিনকে খাবারের ব্যবস্তা করছিলেন, আমি সেন্ট্রি ডিউটি তে, আওয়ামী……!!!!!
(মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি নেতা জনাব চৌধুরী মাহবুবুর রহমানের ফেইসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত।)


