নিজস্ব প্রতিবেদক: নগরীর চান্দগাঁও থানার সিঅ্যান্ডবি এলাকায় সৎ পিতা নয়নই ৫ বছর বয়সী শিশু পুত্র সায়েমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে ।
আজ রবিবার (১ নভেম্বর) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক পিতা নয়ন ঘটনা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন চান্দগাঁও থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার।
ওসি আতাউর রহমান খন্দকার জানান, গত ২৭ অক্টোবর সায়েমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফেলে আত্মগোপনে চলে যায় বাস হেলপার নয়ন। এদিন দুপুরে অজ্ঞাত পরিচয় শিশুর মরদেহটি উদ্ধার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। এরপর তারা বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে আনজুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহটি দাফন করে।
একই দিন রাতে পুত্র সায়েমকে অনেক জায়গায় খোঁজাখুজি করে না পেয়ে চান্দগাঁও থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন মা তানিয়া। তারপর পুলিশের জালে ৩০ অক্টোবর বাস হেলপার নয়ন বাসায় আসলে তাকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। টানা দু’দিনের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদেও মুখ খুলেনি সৎ পিতা নয়ন।
পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে সে একেক সময় একেক রকম তথ্য দিলেও গতকাল ৩১ অক্টোবর রাতে পুলিশকে জানিয়েছে, বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়ায় এক বন্ধুর ২০ হাজার টাকার দেনা শোধ করতে গিয়ে সৎ শিশু পুত্র সায়েমকে বিক্রি করে দেয় সে। রাতেই তাকে নিয়ে বোয়ালখালী পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয় পুলিশ। হদিস মেলেনি নিখোঁজ সায়েমের। পরে আজ নভেম্বর টানা জিজ্ঞাসাবাদে বাস হেলপার নয়ন জানিয়েছে, সে সৎ শিশু পুত্র সায়েমকে হিংসা প্রবণ হয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে চট্টগ্রাম মেডিকেলের সামনে ফেলে চলে যায়।
শিশুটির মা তানিয়া জানান, আগের ঘরের ৪ বছরের শিশু সায়েমসহ তাকে বিয়ে করেন বাস হেলপার নয়ন। থাকতেন নগরীর চান্দগাঁও থানার সিঅ্যান্ডবি এলাকার একটি কলোনিতে। পরের ঘরে আরও একটি সন্তার হলে ছয়মাস বয়সী ছেলেটিকে নিয়ে আর্থিক টানাপোড়নের সংসারে স্বামীকে সাহায্য করতে শিশু সন্তানকে বাসায় রেখে করতেন ভিক্ষাবৃত্তি। যেই শিশু সন্তানের আশ্রয়ের জন্য বাস হেলপার নয়নের সঙ্গে জীবনে দ্বিতীয়বারের মত গাটছড়া বেঁধে ছিলেন সেই শিশু সন্তানকেই সহ্য হয়নি স্বামী নয়নের। তাইতো ৫ বছর বয়সী সেই শিশু সন্তানকে বাসা থেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তানিয়ার দ্বিতীয় স্বামী নয়ন।


