বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

দরপত্র জমা দিতে গিয়ে চসিক অস্থায়ী কার্যালয়ে দুপক্ষের হাতাহাতি

বিশেষ প্রতিনিধি: কোরবানির পশুর হাটের দরপত্র জমা দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) টাইগারপাসস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়েছে দুই পক্ষ।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ উঠে। অবশ্য কর্পোরেশনের সিনিয়র কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তাদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা দরপত্র জমা দেয়। ঘটনার সময় সিটি মেয়র নিজ দপ্তরে ছিলেন না। তিনি ছিলেন পতেঙ্গায় একটি অনুষ্ঠানে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, কোরবান উপলক্ষে নগরীর অস্থায়ী চারটি পশুর হাটে ইজারাদার নিয়োগে গত ২৯ জুন দরপত্র আহ্বান করে চসিক। বুধবার ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। বাজারগুলো হচ্ছে কর্ণফুলী পশুর বাজার, কমল মহাজন হাট পশুর বাজার, সল্টগোলা গরুর বাজার, ৪১নং ওয়ার্ডস্থ বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের খালি মাঠ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুর পৌনে একটার দিকে পতেঙ্গা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান হাবীব সেতুর নেতৃত্বে তানভীর ও রকিসহ কয়েকজন দরপত্র জমা দেওয়ার বাক্সের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় দরপত্র জমা দিতে আসা কয়েকজনকে তারা বাধা দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর কিছুক্ষণ পর পতেঙ্গার ব্যবসায়ী আজাদ, টিটু ও শাহাবুদ্দিনসহ কয়েকজন দরপত্র জমা দিতে এলে দুই পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এসময় দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এক পর্যায়ে তাদের শোরগোল শুনে চসিক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় চসিক-এর এ দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ইজরাদারদের দরপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে তাদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা দরপত্র জমা দেন।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম বলেন, “এক পক্ষ আরেক পক্ষকে টেন্ডার ড্রপ করতে দিচ্ছিল না। এটা নিয়ে হৈ হুল্লোড় শুরু হয়। পরে আমি গিয়ে সবাইকে বললাম, যারা যারা জমা দিতে চান, দেন। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সবাই জমা দিয়েছে।”

চসিক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, “কেউ বাধা দিতে পারেনি। যখন শোরগোল শুনলাম তখন আমি সিআরওসহ উপস্থিত হয়েছি। আমাদের উপস্থিতিতে সবাই জমা দিয়েছে।”

দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পতেঙ্গা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান হাবীব সেতু বলেন, “আমি কেন বাধা দিব, প্রশ্নই আসে না। কর্পোরেশনে গেছি ঠিক আছে, তবে কাউকে বাধা দিই নাই, কারো গায়ে হাতও তুলেনি। আমার সাথে কারো কোনো ধাক্কাধাক্কি, মারামারি, ঝগড়া, কথা কাটাকাটি, সমস্যাও হয়নি।” প্রসঙ্গত, হাসান হাবীব নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের অনুসারী বলে পরিচিত।

দরপত্র জমা দিতে আসা মো. আজাদ বলেন, “সবাই এলাকার ছেলে এবং পরস্পরের শুভাকাঙ্ক্ষী। নিজেরা নিজেরা মিউচুয়াল করতে গিয়ে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। ওটা তেমন ব্যাপার না। কোনো মারামারি-হাতাহাতি কিছু হয়নি। কারো বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নাই। সেতুর বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ নাই।”

তাহলে আপনি দরপত্র জমা দেওয়ার সময় হৈ হুল্লোড় হয়েছিল কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “বাক্সের পাশে হৈ-হুল্লোড় না, এমনি কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তারা বাইরের ছেলে। পরে তারা ‘সরি’ বলেছে। তাই এটা নিয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না।”

কার পক্ষে দরপত্র জমা দিতে গিয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি, মমতাজ, শাহাবুদ্দিন, টিটু আমরা একই সিন্ডিকেট। মমতাজ ভাই প্রধান। আমরা টেন্ডার করে নিছি।”

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত