বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

কক্সবাজারে লাইসেন্সবিহীন যত্রতত্র গ্যাস বিক্রি

পর্যটননগরী ককসবাজার জেলার উপজেলা শহর সহ আনাচে কানাচে লাইসেন্সবিহীন অরক্ষিতভাবে অবাধে চলছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি। মাননির্ণয় ছাড়াই এসব সিলিন্ডার, শহরের মানুষের পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদের মানুষ ব্যবহার করছে। কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই এ ককসবাজার পৌসসভার ভিতরে দুএকটি দোকান ছাড়া সব জায়গায় একই অবস্থা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে বলে দাবী করছেন সচেতন মহল। শহরের সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, নুনিয়ার ছড়া, বিমান বন্দর সড়ক, ঘোনার পাড়া, মোহাজের পাড়া, টেকপাড়া, বাইতুশ শরফ রোড়, খাজা মন্জিল, আদর্শ গ্রাম, কলাতলী, নতুন জেল গেইট, বাস টার্মিনাল, পিটিস্কুল, রুমালিয়ার ছড়া, তারাবনিয়ার ছড়া, কালুর দোকান, আলির জাহাল, বিডিআর ক্যাম্প, বাহার ছড়া, খুরুশকুল রাস্তার মাথাসহ জেলার ৮ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে এসব গ্যাস সিলিন্ডার।

এসব গ্যাস সিলিন্ডার থেকে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এদিকে কয়েকদিন আগে, শহরের বাহারছরা এলাকায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এক শিশুর মৃত্যুর পর, পুরো জেলায় বিভিন্ন স্থানে সিলিন্ডার বিক্রি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলিন্ডারের মাধ্যমে আবাসিক খাতে গ্যাস ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক অধিদফতরের কয়েকটি নীতিমালা রয়েছে। মহা বিস্ফোরক অধিদফতর কর্তৃক এসব নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য মনিটরিং সেলও রয়েছে। দেশের বেশ কয়েকটি গ্রুপ অব কোম্পানি আবাসিক খাতে ব্যবহারের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার তৈরি এবং বাজারজাত করছে। আর নীতিমালা ভঙ্গ করে এসব সিলিন্ডার এখন যত্রতত্র বিক্রি করা হচ্ছে। বিস্ফোরক অধিদফতর গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় ও বিপণন লাইসেন্স প্রদান করলেও সাব-ডিলারের নামে এসব প্রতিষ্ঠান বাজারে মুদি মালের মতো গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক উপজেলার এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করার কথা থাকলেও অসাধু গুটিকয়েক কর্মকর্তা উৎকোচের বিনিময়ে এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়ে উল্টো মদদ প্রদান করছে। বিধি মোতাবেক ১০টির বেশি সিলেন্ডার মজুদ রেখে বিক্রির ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদফতরের সনদ নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪-এর অধীনে গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা ২০০৪-এর ৬৯ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া অনধিক ১০টি গ্যাসপূর্ণ সিলেন্ডার মজুদ করা যাবে। তবে বিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী এসব সিলেন্ডার মজুদ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং আগুন নিয়ন্ত্রক সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। সিলিন্ডার গ্যাস স্থাপনা প্রাঙ্গণে দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুদ করা স্থানের কাছাকাছি আলো বা তাপের উৎস থাকা যাবে না। এসব আইনের তোয়াক্কা না করে চা-দোকান থেকে আরম্ভ করে ভ্যারাইটিজ স্টোরেও পাওয়া যায় এ সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল। বর্তমান সময়ে ককসবাজার জেলাসহ ৮ উপজেলায় সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। অত্রঞ্চলে গ্যাস লাইনের সংযোগ না হওয়ায়, জনসাধারনের একমাত্র ভরসা সিলিন্ডার গ্যাস। কিন্তু এ সিলিন্ডার গ্যাস শহরসহ উপজেলার সর্বত্র বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যাচ্ছে অরক্ষিত অবস্থায়।

ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিবহন ও বিস্ফোরক অধিদফতরের অনুমতিবিহীন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার দেদার বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানের সামনে এমনকি ফুটপাথে সিলিন্ডার ফেলে রেখে এ ব্যবসা নির্বিগ্নে পরিচালনা করছেন ব্যবসায়ীরা। মুদি দোকান, হার্ডওয়ারের দোকান, ফ্লেক্সিলোডের দোকান, মেশিনারি দোকান, সারের ডিলার এবং চা-দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে এ সিলেন্ডার গ্যাস। অরক্ষিত অবস্থায় যত্রতত্র সিলিন্ডার ফেলে রেখে বিক্রির ফলে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এসব দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার কথা থাকলেও তা নেই অধিকাংশ দোকানে। আবার কোন কোন দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও তা অকেজো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও ককসবাজারের রামু উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে, মুদির দোকানে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার। এসব সিলিন্ডার বিক্রির ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ। মুদি দোকানসহ বিভিন্ন দোকানেও চলছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি।

সরেজমিনে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে অন্তত তিন শতাধিক দোকানে দেদারছে চলছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি। কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক এম, সেলিম জানান, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দেয়া দরকার। নজরদারি না থাকার কারণে যত্রতত্র চলছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি। ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।লাইসেন্সধারী গ্যাস বিক্রেতা জনৈক ব্যাক্তি জানান, গ্যাস সিলিন্ডার অনেকটা বোমার মতো। গ্যাস বিক্রি করতে হলে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স, বিস্ফোরক লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তা না হলে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরক লাইসেন্স নিতে অনেক টাকা খরচ হয়। কিন্তু অবৈধ ব্যবসায়ীদের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে গেছে।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রনয় চাকমা জানান, তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অন্যদিকে, টেকনাফ উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র টেকনাফ বাজার, শাপলাপুর বাজর, হ্নীলা বাজার, লেদা বাজার,সাবরাং বাজার,নয়া পাড়া বাজার,শাহ পরীর দ্বীপ,সেন্টর্মাটিন বাজারে মুদি দোকান, পানের দোকান, হার্ডওয়ারের দোকান, গ্যারেজ, ওষুধের ফার্মেসিতে চলছে গ্যাস সিলিন্ডারের রমরমা ব্যবসা। অথচ উপজেলার গুটি কয়েক দোকান ছাড়া অধিকাংশ সিলিন্ডার বিক্রির দোকানে বিস্ফোরক লাইসেন্স নেই। নেই কোনো ধরনের অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রও। এ দিকে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা গ্যাসের দামও নিচ্ছেন বিভিন্ন কায়দায়। এলপি গ্যাস ৯শ টাকা থেকে শুরু করে ১২শত টাকায় বিক্রি করা হয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ভোক্তা।

এছাড়াও ওমেরা, বসুন্ধরাসহ অন্যান্য গ্যাস বিক্রির ক্ষেত্রেও ভিন্ন ভিন্ন দাম নেওয়ার হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী দোকানগুলোতে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখার বিধান থাকলেও এই বিধান কোনো ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। টেকনাফ বাজারের কয়েকজন গ্যাস ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির হার ববৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং পরিবেশকদের মিলে লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতে গ্যাস সরবরাহ দিচ্ছে।বিপদজনভাবে অবাধে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি রোধ এবং সঠিক দাম নির্ধারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন ভোক্তা মহল।

এই ব্যাপারে ককসবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত