নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, আমাদের দুভার্গ্য মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারীদের একটি সরকারি তালিকা চূড়ান্ত করা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের সকল জনপদে বুদ্ধিজীবীদের টার্গেট করে হানাদার পাকিস্তানী ও তাদের দোষররা বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত পাহাড়তলীস্থ বধ্যভূমিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।
আ জ ম নাছির উদ্দীন আরও বলেন, আমাদের আরো একটি দুর্ভাগ্য যে, আমাদের নিজ নিজ এলাকায় কারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী এবং ৭১এর পরাজিত শক্তির এজেন্ট তাদের নামও আমরা জানি না। অথচ তাদের কাছে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী নামগুলো তৈরি করা আছে, সুযোগ পেলেই আমাদেরকে তারা সহজেই টার্গেট করতে পারে। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে যখন জাতীয় ঐক্যের ডাক আসে, তখন আমরা তাদেরকে সনাক্ত করতে পারিনা।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, আমাদের মধ্যে বড় দুর্বলতা ক্ষেত্র বিশেষে আপোষকামিতার মনোভাব, তাই আমরা কেউ কেউ কু-মতলবে জামাত শিবিরের চিহ্নিত নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিই এবং তাদেরকে তথাকথিত দেশপ্রেমিকের সার্টিফাইট করি।
তিনি বলেন, আমাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিতে হবে। এই বিজয়ের মাসে জামাত বিএনপি পরিকল্পিতভাবে দেশে সরকার পতন আন্দোলনের নামে নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাতে চেষ্টা করেছিল আমরা তাদেরকে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু নাশকতা সৃষ্টির লাইসেন্স দিতে পারি না এবং দিই নি। জনগণ তাদের কুমতলব প্রত্যাক্ষান করেছে। আমরা চাই দেশে একটি সহনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকুক। এই পরিস্থিতিকে যারা অবনতিশীল ও অস্থিতিশীল করতে চায় জনগণ তাদের প্রত্যাক্ষান করেছে। কারণ আজ তারা দেশের জন্য রাজনীতি করে না হাজার কোটি টাকা দিয়ে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে এবং পেশাদার এই লবিস্টরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। কিছু বিদেশী রাষ্ট্রদূত কূটনীতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে এবং অনাকাঙ্খীত পরামর্শ দিচ্ছে। এটা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ কখনো মেনে নেবে না।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লন্ডন ও নিউইয়র্কে কিছু ভুঁইফোর মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশের মানবাধিকার হরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্যাংশন করার দাবি তুলতে পারেন এটাও কিছুতেই স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা মেনে নিতে পারি না। তাদের এই দুঃসাহস মোকাবেলায় আজকের এই সভা থেকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, বীরের রক্ত¯্রােত ও মায়ের অশ্রুধারা কখনো ব্যর্থ হয় না। তাই বাঙালির অর্জিত স্বাধীনতাকে কেউ নস্যাৎ করতে পারবে না। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে নাই। একের পর এক ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলেও নতুন নতুন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এগুলোর ইন্দন দাতা বিএনপি জামাত। যারা অতীতে ক্ষমতাসীন হয়ে দেশকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল। আবার কেউ কেউ আফগানিস্তান বানাতে চেয়েছে। আজ তারা আবার নতুন খেলায় মেতেছে। জ্বালাও পোড়াওয়ের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের চাকা থামাতে চায়।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে তারা প্রকৃত অর্থে চরম মানবতা বিরোধী তাদের বশংব্দরা এখনো আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি জামাতের আশ্রয় প্রশ্রয় পাচ্ছে। তাই সামগ্রিকভাবেই জাতি বিপদজ্জনক পরিস্থিতি ও পরিবেশের মধ্যদিয়ে একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রান্ত করে যাচ্ছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রাণিত হয়ে চূড়ান্ত লড়াইয়ের শরীক হয়ে জাতিকে বিপদমুক্ত করতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, সহ সভাপতি আলহাজ নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী, উপদেষ্টা আলহাজ্ব সফর আলী, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহমুদ শমসের, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, ধর্ম সম্পাদক হাজী জহুর আহমদ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাজী মোঃ হোসেন, শ্রম সম্পাদক আব্দুল আহাদ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য গাজী শফিউল আজিম, সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার, আব্দুল লতিফ টিপু, নিছার উদ্দিন মঞ্জু, মোঃ জাবেদ, রোটারিয়ান মোঃ ইলিয়াছ, হাজী বেলাল আহমদ, মোর্শেদ আক্তার চৌধুরী, থানা আওয়ামী লীগের মমিনুল হক, রেজাউল করিম কায়সার, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সৈয়দ মোঃ জাকারিয়া, মোঃ গিয়াস উদ্দীন, নুরুল আমিন, মোঃ আলী নেওয়াজ, কায়সার মালিক, জহুরুল আলম জসিম, জামাল উদ্দীন, মোঃ ইয়াকুব, আব্দুল মান্নান, আব্দুল শুক্কুর ফারুকী, জাফরুল হায়দার সবুজ প্রমুখ।
সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, সকালে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি সম্মানার্থে বিন¤্র শ্রদ্ধা নিবেদনে ১মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।


