নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডে (সিজিপিওয়াই) ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে তিনটি তেলবাহী (ডিজেল) ওয়াগন পড়ে যাওয়া পর গুপ্তখালে ছড়িয়ে পড়েছে তেল। দুর্ঘটনার পর তেলের ছড়ানো ঠেকাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আশপাশের ড্রেন ও খাল থেকে ডিজেল গিয়ে মিশেছে মহেশখালে। খালে মিশে যাওয়া ডিজেল মহেশখাল হয়ে নদী ও সাগরে মিশে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খালের বিভিন্ন অংশ থেকে রাতভর স্থানীয়রা নানা উপায়ে সংগ্রহ করেছেন ছড়িয়ে পড়া ডিজেল।
শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসছেন রেলওয়ে মহাপরিচালক (ডিজি) প্রকৌশলী মো. কামরুল আহসান। এ সফর শেষে পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক হবে বলেও নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পতেঙ্গা এলাকার পদ্মা, মেঘনা, যমুনা থেকে রেলেওয়ে নিজস্ব পরিবহনের ডিজেল নিয়ে সিজিপিওয়াই প্রবেশের পথে লাইনচ্যুত হয় তিনটি ডিজেলবাহী ওয়াগন। দীর্ঘ ২২ ঘন্টা চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় উদ্ধার কাজ সমাপ্তি হয়।
দুর্ঘটনার পর রেললাইন ঘেঁষা ড্রেন থেকে ইসহাক ডিপো ছোট খালে গিয়ে পড়েছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল। সেই ছোট খালটি মহেশখালের শাখা খাল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ খাল গিয়ে সরাসরি কর্ণফুলী নদী ও সাগরে মিশেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসহাক ডিপোর রেলগেট এলাকা সংলগ্ন খাল থেকে ডিজেল কুড়িয়ে নিচ্ছে শিশু-কিশোররা। কেউ ড্রামে ভরছেন, আবার কেউ বোতলে ভর্তি করে তেল সংগ্রহ করছেন। এভাবে হালিশহর ও ইসহাক ডিপো এলাকার চারটি স্পটে ফোম, ড্রাম ও নেট বসিয়ে ডিজেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। দুপুরে ট্রাকের হেলপার মোহাম্মদ সিদ্দিকী বলেন, ‘সকাল ১১টার দিকে তেল কুড়াতে শুরু করি। সকাল থেকে ১০৯ লিটার পেয়েছি। এগুলো কেজি দরে ৬০ টাকা করে বিক্রি করছি। কালরাতে যারা তেল কুড়িয়েছেন তারাই বেশি পাইছেন।’
শুধু ওই এলাকা নয়, শাখা খালটির আশপাশের এলাকার বিভিন্ন স্থানে ডিজেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। গত বুধবার রাতে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার পর রাত ৯টার দিক থেকে ডিজেল কুড়ানো শুরু করেন। ভোর ৬টা পর্যন্ত কেউ পাঁচ ড্রাম আবার কেউ ১০ ড্রাম ডিজেল কুড়িয়ে নিয়েছেন।
উল্টে যাওয়া ওয়াগনের ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার ৬১০ লিটার। অর্থাৎ দুটি ওয়াগনে প্রায় ৭০ হাজারের লিটারেরও বেশি ডিজেল ছিল। যার অধিকাংশ পড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে কি পরিমাণে তেল পড়ে গেছে তা রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করতে পারেনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনে কোটি টাকার সম্পদ দেশের লাইফ লাইন হিসেবে খ্যাত সিজিপিওয়াই। সেখানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তেল, গম, চালসহ নানা জিনিসপত্র নিয়ে সারা বাংলাদেশে ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু ট্রেনের কনটেইনার ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ইঞ্জিন। বুধবার রাতে দুর্ঘটনার মুখে পড়া ইঞ্জিনটির সিরিয়াল নম্বর ২২০৪। ‘পাকিস্তান আমল’ থেকে ইঞ্জিনটি ব্যবহার হলেও মেয়াদ কবে শেষ হয়ে হয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে দুর্বল ট্র্যাক, ইঞ্জিন, ঝুঁকিপূর্ণ রেলগেটসহ বিভিন্ন কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি রেলওয়ে কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা নদী গবেষক মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, তেল যদি খালের মাধ্যমে নদীতে ছড়িয়ে যায়। তাহলে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা থাকবে।
এদিকে গতকাল পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় মহেশখালসহ বিভিন্ন স্পট থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।


