বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

গল্পের শুরু টা না হয় পরেই হবে.!

      জীবন নামের ঝুলন্ত থলি থেকে, পর্ব-২        মো: নাজিম উদ্দীন

না, আমার কিছুই হয়নি ! তবে একটু দম নিয়ে “আজাম” (বাঁশের ডোগার আশ দিয়ে খতনা করানো’র অভিজ্ঞ বংশের লোক-“Hazam, like dr. For complaiting the holy Sunnat-e-khatnah”) আনতে গিয়েছিলাম।

দুনিয়া জোড়া অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি যখন কব্জা (!), ঘুরে ফিরে সেই কাগজ্বি লেবু আর কুসুম কুসুম গরম পানিতে গোটা বিশ্ব যবুথবু। তো —! আর আধুনিক ডিজিটালের কাম্ কী (?) ডাক্তার এর বাচ্চা হলেও আজকাল পাঁচ হাজার টাকার প্যাকেজ এ যখন দাঁড়িয়ে বিশ্ব, শিশুর পিতা কচকচে নতুন পাঁচ খানা হাজারী নোট নিয়েও ইনিয়ে বিনিয়ে উঁকি ঝুঁকি দিতে থাকে ঘর্মাক্ত হৃদয়ে।

সন্দেহ, শংকা হোক আর বিশ্বাসের আস্তাকূঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়া কোনোও চর্ম বেয়ে ঘর্ম ঝড়ানো পিতা ভাবতে বসবে ঠিক ঠিক কথামতো কসমেটিক সার্জারী তো (?) নাকি ম্যানুয়াল ষ্টিচ্ মেরে দিলো ডাক্তার (!) তথাবৎ পঞ্চাশ কি শত্-ই একটা কচকচে একখান নোট গুঁজে দিয়ে তো গলার থেকে আটকে থাকা আওয়াজটা বেরিয়ে আসলো ও কম্পাউন্ডার — ! ভাবতেই আমার শ্বাস আটকে যায়। না আমার অতো ফুরসৎ নেই।

আমি অতো সব ডিজিটালের তোড়ে ভেসে যেতে রাজি নই। কেননা, এই ডিজিটাল ব্যবস্থা আমাকে দিয়েছে অপসংস্কার, বেলেল্লাপনা, হিংসা, বিদ্বেষ, অপ ব্যবস্থাপনা। কেড়ে নিয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা। কেড়ে নিয়েছে মায়ের মুখের সোনালী হাসি।

আমার সাদাসিধে কথা গুলো কদাচিৎ গর্ভধারীণী মাতাও বুঝে উঠতে চায় না। না বৌ কে এটা দাও, ওটা দিতে হবে, অমুকের বৌ এভাবে সাঁঝে, ওভাবে সাঁঝে ইত্ত্ব সমাচার। কিন্তু মুখ ফুটে আর বলা হয়ে উঠে না, মা (!) যে বউয়ের আদরে তুমি কাতর, সে বউ তোমাকে নিয়ে একটা হাঁচি দিলেও সার্থক হতো, বলা হয়ে উঠে না মা, যে বউয়ের আদরে তুমি আটখানা হয়ে আছো (!) সে বউয়ের নামে বাবুদের কে নিয়ে আমার অবর্তমানে অমুখাপেক্ষী থাকার জন্য আঁকড়ে থাকার সম্বল সহায় আগাম কিনে দিয়ে যে, আমি আত্মহত্যা করে ফেলেছি, সে যদি তুমি জানতে পারো, তবে খুউব বেশি কষ্ট পাবে বিধায়, ঘুণাক্ষরেও টের পেতে দেই না তোমায়।

তুমি আমার আচরণে হতবাক হয়ে গিয়েছিলে, ছেলে আমার অমন কেনো করছে, তুমি কষ্ট পেয়েছো বিস্তর, আমি বুঝি ! কিন্তু কি করব মা, আপন দুটো সোনার সন্তান কে সে মানুষ করছে, অনেক সময় ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও আবোল তাবোল বকেছি কতো (?) আমার মনের ব্যাকূলতা ছিলো, সে নিজেই তোমাকে ভালোবাসা দিয়ে মন ভুলিয়ে দিবে, অর্থাৎ আমার চেয়ে তোমার কাছে বেশীই প্রিয় হয়ে উঠবে আমার স্ত্রী ! আমি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিলাম ছলনাময়ী এক ললনা’র আত্মবিধ্বংসী আৎকা বিভূতির অতল গহ্বরে।

বাকীটা না হয় পরেই বলি….! তাই অতোসব ডিজিটাল জাহেলীয়া এখন আর আমায় তাড়িত করে না। আমার সাথে কেউ একমত না হলেও ছোট মামার ‘ভুচিক্যা’ এক মত হবেই হবে, এ আমি জানি। কেননা, আমার বাঁস গন্ধ পেলেই প্রথমে ভোঁ দৌড়, কিছুক্ষণ পর উঁকি ঝুঁকি মেরে নজর দিতে থাকে আমার লুঙ্গির গোঁচের দিকে। কারণ তার বদ্ধমূল ধারণা এই যে, আমি যে কোনোও সময় “আযাম” এর বাঁশের ডগা, নচেৎ খুর কাঁচি পেঁচে গুছিয়ে নিয়ে আসার সম্ভাবনা শতভাগ, কারণ গেলো বছর তাকে নিয়ে আসার কথা ছিলো, মামানির সাথে, সুন্নত্ এ খতনা দেবো বলে, তাই তার বদ্ধমূল বিশ্বাস (!) ডিজিটাল ঈমান দারের ভাঁওতাবাজি অপেক্ষা অধিকতর মজবুত বলেই আমার বিশ্বাস।

আল্লাহ্ সোবহানু তায়ালা’র মেহেরবানী যদি একান্তই না হয়, তো আমাদের এসব বেলেল্লাপনা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে গোঁমরাহীর অতল গহ্বরে, ক্বেয়ামতের জবাব কী…!!

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত