চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ জলদস্যু চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কোতোয়ালী থানার পুরাতন ফিশারিঘাটের ১ নম্বর লোহার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ফিশিং বোট জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আসিফ উদ্দিন তামিম (২২), মো. ফাহাদ আহম্মদ (২০), তাপস ধর (২৫), পরিমল সাহা (৪৮), মো. নবী (২৮), মো. রাজিব (২৫), মো. হৃদয় (২০) ও বোটের মাঝি হরি চন্দ্র দাস (৪০)। তবে তাদের সহযোগী আরও ১০ থেকে ১১ জন নদীতে লাফিয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পুলিশ সুপার সাঈদ ইবনে রেজা। তার সঙ্গে ছিলেন এসআই আরিফুল আলম ও এসআই বিকাশ সাহা। এ সময় দুটি বোট থেকে রামদা, লোহার হাতলযুক্ত দা, বল্লম, তলোয়ার, রড, শাবল ও হুকসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে সদরঘাটের একটি হোটেল থেকে বোটের মাঝি হরি চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করা হলে তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, ছয়টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, চারটি বাটন সেট মোবাইল ও ছয়টি রকেট প্যারাস্যুট ফ্লেয়ার জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন যে, তারা সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুমিরা চ্যানেল, পতেঙ্গা ও কর্ণফুলী নদীতে একাধিকবার ফিশিং বোটে ডাকাতি করেছে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জেলে ও শ্রমিকদের কাছ থেকে মাছ, জাল, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ লুটে নিত তারা। আতঙ্ক সৃষ্টি করতে রকেট ফ্লেয়ারও ব্যবহার করত।
নৌ পুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন বলেন, “এটি একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র। তারা দীর্ঘদিন ধরে সাগর ও নদীতে ডাকাতি চালিয়ে আসছিল। অভিযান চালিয়ে চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।”
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।


