শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

হাম কর্নারে শয্যার চেয়ে তিন গুণ রোগী, সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম কর্নারে শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। ১৬টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জনের বেশি শিশু ভর্তি থাকায় একটি ছোট শয্যায় গাদাগাদি করে তিন থেকে চারজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কারও মুখে অক্সিজেন, কারও হাতে স্যালাইন, আবার অনেক শিশুর শরীরজুড়ে লাল ফুসকুড়ি। শিশুদের কান্না ও যন্ত্রণায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। জায়গার সংকটের কারণে রোগীদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না, যা সংক্রমণ বিস্তারের বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। গত রোববার ভর্তি ছিল ৬৪ জন শিশু, যার মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।

অভিভাবকরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, একটি বেডে একাধিক শিশুকে রাখতে হওয়ায় স্বাভাবিক সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুর মা জানান, হঠাৎ জ্বরের পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে হাসপাতালে আনতে হয়, কিন্তু এখানে জায়গার সংকটে শিশুকে ঠিকমতো দেখাশোনা করা যাচ্ছে না। আরেক অভিভাবক বলেন, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বা ওষুধ দেওয়ার মতো ন্যূনতম জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। এ অবস্থায় একই শয্যায় একাধিক রোগী রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সুস্থ শিশুরাও সহজে সংক্রমিত হতে পারে।

হাসপাতালের একাধিক বিশেষজ্ঞ স্বীকার করেছেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। শিশু ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান জানিয়েছেন, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই একই বেডে একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কিছুটা সুস্থ হলে রোগীদের অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যাতে গুরুতর রোগীদের জায়গা দেওয়া যায়।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে দুই শতাধিক শিশু হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ৩২৮টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, অনেক শিশু টিকা নেওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিটি শিশুর টিকা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে, তাতে সীমিত শয্যা ও জনবল নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত