বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে আবারও বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। নতুন এই মূল্যহার শনিবার (১৮ এপ্রিল) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ঘোষণা করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন বিভাগের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক। এতে বলা হয়, নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। নতুন এ দর রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে।
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশে জ্বালানি তেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট জারি করা আদেশে ডিজেল ও কেরোসিনে লিটারপ্রতি ৩৪ টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেনে ৪৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১১৪ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই সময় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে গণপরিবহনের ভাড়া সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার থেকে বেড়ে ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ দাম ছিল ২০২২ সালের ৮ মার্চ, ব্যারেলপ্রতি ১৩৭.৬৪ ডলার। অন্যদিকে সর্বনিম্ন দাম রেকর্ড করা হয় করোনাকালে ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি, ব্যারেলপ্রতি ৫০.৩৩ ডলার।
বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা’ জারি করে। এ নির্দেশিকা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার কথা রয়েছে। এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কমিশন অপরিবর্তিত থাকে, তবে আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে দাম কমবেশি হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত যানবাহনে বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় পেট্রোল ও অকটেনকে তুলনামূলকভাবে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে এগুলোর দাম ডিজেলের তুলনায় বেশি রাখা হয়।


