বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আজ সোমবার রাত ৭ টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর জামায়াতের কার্যালয়ে এক দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সরকার জনগণের মতামত ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে দেশ পরিচালনা করছে। সরকার কোনকিছুই তোয়াক্কা না করে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের পুরনো পথেই হাঁটছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে। এবং সরকার জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।
মুহাম্মদ শাহজাহান আরও বলেন, দেশে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সংকট দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদিওবা সরকার সংসদে জ্বালানি সংকট বাংলাদেশ নেই বললেও মালিক ও চালকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের সংকটে কারণে পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সকল ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর – ঘণ্টা সময় ব্যয় করছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। এই দীর্ঘ লাইনের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে তাদের সময় ও শ্রম নষ্ট হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার ভিন্নমত দমন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম দেশের তেল ও গ্যাস খাতে অব্যবস্থাপনা এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অদক্ষতা ও ভুল নীতির কারণে আজ দেশবাসী চরম ভোগান্তির শিকার। তেল ও গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। শিল্পখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের কথা বিবেচনা না করে বারবার জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছে, অথচ খাতটির সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তেল ও গ্যাস খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি বন্ধ এবং যৌক্তিক দামে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি জোর দাবি জানান।
এতে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসানুল্লাহ, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা. একেএম ফজলুল হক, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


