শনিবার, ২ মে ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রামে ক্যান্সার জয়ীদের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী বৈশাখী মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ক্যান্সার জয়ী ও চিকিৎসাধীন রোগীদের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী “বৈশাখী মিলনমেলা ২০২৬”। “লড়াই শেষে জয়ের সাজ, অদম্য যোদ্ধাদের উদ্যোগ আজ”—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে নগরের জিইসি কনভেনশন হলে আয়োজিত এ মিলনমেলায় উঠে আসে জীবন জয়ের অনুপ্রেরণামূলক গল্প।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। অস্ত্রোপচার, ওষুধ ও রেডিয়েশনের সমন্বিত চিকিৎসায় অনেক রোগী সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। তাই ক্যান্সার মানেই জীবন শেষ—এই ধারণা সঠিক নয়।”

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর মানসিক শক্তি, পরিবারের সহযোগিতা এবং সঠিক পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন ক্যান্সার জয়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সমাজে স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খ্যাতনামা অনকোলজিস্ট ডাঃ ভাস্কর চক্রবর্তী-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই মেলার বিশেষত্ব ছিল—এর উদ্যোক্তা ও অংশগ্রহণকারীরা নিজেরাই ক্যান্সার জয়ী সারভাইভার ও বর্তমান যোদ্ধা। তাদের পরিচালিত স্টলগুলোতে ছিল হাতে তৈরি হস্তশিল্প, বৈশাখী পোশাক এবং ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলির সমাহার।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সারভাইভারদের স্টল, যেখানে দেশীয় পণ্য ও খাবারের পাশাপাশি ভাগাভাগি করা হয় তাদের সংগ্রাম ও জয়ের গল্প। এছাড়া “বিজয়ের বেশে” শিরোনামে বিশেষ ফ্যাশন শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেডিটেশন ও আড্ডা আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এম. এ. মালেক, ওয়াহেদ মালেক, ইন্দু নন্দন দত্ত, এডভোকেট আবু মোঃ হাসেম, ডাঃ মাহফুজুর রহমান এবং প্রফেসর রীতা দত্ত।

আয়োজক ডাঃ ভাস্কর চক্রবর্তী বলেন, “ক্যান্সার মানেই জীবনের শেষ নয়; বরং এটি নতুন সাহসের শুরু। এই মেলার মাধ্যমে আমরা সমাজে সেই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই—অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব।”

এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, সঠিক চিকিৎসা, দৃঢ় মনোবল ও সামাজিক সহমর্মিতা থাকলে ক্যান্সার জয় করে নতুন করে জীবন শুরু করা সম্ভব।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত