মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
Single Top Banner

মোটরসাইকেল আরোহী’দের থেকে হকার্স সমিতির সদস্যদের তুঘলকি কায়দায় চাঁদাবাজি

স্টাফ রিপোর্টার: মোটরসাইকেল আরোহী বনাম হকার্স সমিতির সদস্যদের তুঘলকি কায়দায় চাঁদাবাজির ঘটনায় হতবাক সাধারণ মানুষ, আজ বিকাল অনুমান ০৬:০০ ঘঠিকার দিকে চেতনা৭১নিউজ এর একটি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই জোচ্চুরি কায়দায় চাঁদাবাজির ঘটনাটি চট্টগ্রাম দারুল ফজল মার্কেট এর সামনে।

কতিপয় ব্যক্তি হকার্স সমিতির সদস্য নামধারী চাঁদাবাজ একশত টাকা করে চাঁদাদাবী করছে বলে অভিযোগের সুরে জানান চমেক হাসপাতালে মূমূর্ষ রোগীর চিকিৎসা করাতে আসা ভুক্তভোগী খালেদুজ্জামান গাজী আশিক। তিনি জানান অনুমাণ দশ মিনিট আগে আমি আমার বাইকটি এখানে রেখে সংলগ্ন মার্কেটে পরিচিত ব্যক্তির নিকট থেকে জরুরী চিকিৎসার প্রয়োজনে টাকা আনতে যাওয়া কালে বাইকের সাথে আমার পরিহিত হেলমেট টি রেখে যাই। সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট এর মাথায় এসে আমার হেলমেট টি না পেয়ে এদিক-সেদিক খোঁজাখোঁজি করতেই এক লোক একশো টাকার বিনিময়ে হেলমেট দেওয়ার প্রতিশ্রূতি দিলে গত্যন্ত’র না পাইয়া তাহাকে দাবীমূলে টাকা দেই, কিন্তু এতোক্ষণেও আমার হেলমেট টি ফেরত দিচ্ছেন না। অথচ আমার রোগী জীবন সংকূল পরিস্থিতিতে আমার অপেক্ষা করছেন। পেশায় এসি/ফ্রিজের মিস্ত্রী খালেদ রাউজান নোয়াপাড়া নিবাসী খোরশেদ আলমের সন্তান বলে জানান। তার কাছ থেকে চাঁদা গ্রহণ কারী ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক খুঁজে বের করা হলে তিনি নাম ওমর ফারুক, বাড়ী মাইজদী নোয়াখালী এবং এখানে দারুল ফজল মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে জুতার ব্যবসা করে বলে জানান। মধ্যবয়সী ওমর ফারুক কে জিজ্ঞাসা করাকালে চটজলদী খালেদ এর হাতে টাকাটি গুজে দেন। তাহাকে টাকা যখন নিলেন তো উপকার করে দেন, বলে অনুরোধ করলেও এই প্রতিবেদক থাকাকালে হেলমেট টি ফেরত দেওয়া হয়নি। তাদের নেতার খোজ নিতে গেলে ততোক্ষণে তথায় হাজির হন সেকান্দর নামীয় ব্যক্তি নিজেকে হকার্সের সহ-সভাপতি পরিচয় দেন। এ ব্যপারে তিনি দায়িত্ব নিয়ে বলেন যে, বিষয়টি তিনি দেখছেন।

একই সময়ে পেশায় ব্যবসায়ী সুব্রত হাওলাদার নামীয় ব্যক্তি জানান, তার রাখা বাইক নং- চ.মে.ল-১৪-২৮৩৫, এর সাথে রাখা দুটো হেটমেট এর মধ্যে দামী টা পান নি, চ.মে.হ-১৫-৫৬৫৬ নং বাইকের মালিক দাবী করে সাজ্জাদ হোসেন জানান, সেকেন্দার নামীয় নেতার উপস্থিতি তেও গড়িমসি করার চেষ্টা করলে, তিনি প্রশাসনের স্মরণাপন্ন হতে উদ্যত হলে তিনি তাঁর হেলমেট খানা ফেরত পান। ফোনালাপে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এহেন কর্মকান্ড কে একটি সংঘবদ্ধ দলের সুষ্পষ্ট চাঁদাবাজী বলে অভিহিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি এ ধরনের মোটর বাইক রাইডার দের স্বল্প সময়ের পার্কিং সুবিধায় বৈধ পন্থায় সরকারী টেক্স আরোপেও জনমনে স্বস্থি আসতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা পরিচয়দানকারী শান্ত ও মিষ্টভাষী এই ভূক্তভোগী। ঢা.মে.হ-৫৮-৪০৪০ নং বাইক এর মালিক দাবীকারী ইফাদ গ্রুপের বিপনন কর্মকর্তা সুমন দাস নামীয় ব্যক্তি জানান সৌভাগ্য ক্রমে লোকজন শটকে পড়ার পর তথায় পরিত্যক্ত অবস্থায় তার হেলমেট টি পেয়ে তিনি বেজায় খুশী হয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে ফোনালাপ কালে তিনি জানান যে, তার সহধর্মিনী অসুস্থ থাকায় তিনি যথাসম্ভব বাসায় চলে যান।

এ বিষয়ে ট্রাফিক উত্তর বিভাগ সিএমপি এর টিআই প্রশাসন জনাব মহীউদ্দীন খান এর নিকট যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান এ এলাকায় অবৈধ পার্কিং বন্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান চলমান আছে, তবে হেলমেট চুরি করে চাঁদাবাজি বা এ ধরণের বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিষয়ে থানা প্রশাসন কে সাথে নিয়ে জড়িত দের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাফিক বিভাগ এই অবৈধ পার্কিং যেমন সমর্থন করে না, তেমনি সড়কে যে কোনও ধরণের বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মহসিন অভিযানে ব্যস্ত থাকায় সেকেন্ড অফিসার জনাব নীপু বিশ্বাস এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সত্যতা নিশ্চিত করে ফৌজদারি অপরাধের দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় সোপর্দ করার লক্ষ্যে দূর্বার অভিযান চলবে বলে আশ্বস্ত করেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত